শেয়ার জালিয়াতির মামলায় আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৭ মার্চ ২০২৬ ০২:১৯ অপরাহ্ণ   |   ৯৬ বার পঠিত
শেয়ার জালিয়াতির মামলায় আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

শেয়ার জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিক সোমবার (১৬ মার্চ) এ পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি কার্যকর করার জন্য ঢাকার বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইনকনট্রেড লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডার আমিরুল হকের পক্ষে মুশফিক আল মাসুন মামলাটি দায়ের করেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে বাদী ও তার স্ত্রী কোম্পানির মোট ২ হাজার ৩০০ শেয়ারের বিপরীতে ৫০০ শেয়ারের মালিকানা অর্জন করেন। কিন্তু পরে ২০০৭ ও ২০০৯ সালে কোম্পানির শেয়ার বৃদ্ধি করা হলেও বাদী ও তার স্ত্রীকে সে বিষয়ে অবহিত করা হয়নি।

 

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ের নোটিশ না দিয়েই জাল রেজল্যুশন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বৃদ্ধি করা হয় এবং সেই শেয়ার এককভাবে নিজের নামে বরাদ্দ নেন ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন।

 

তদন্তে আরও জানা যায়, দুই ধাপে কোম্পানির শেয়ার মূলধন বাড়ানো হয়—প্রথমে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৭টি এবং পরে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৫৩৩টি শেয়ার যোগ করা হয়। এর মাধ্যমে হারুন প্রায় ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ লাভ করেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

 

পিবিআই তাদের প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ১০৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহসিন সরকারও এই অনিয়মে জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

 

তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পরই বিচারক ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

 

ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ব্যবসা ও রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন এবং ১৯৯৮ ও ২০০৩ সালে এফবিসিসিআইর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথম ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং  ২০১৮ সালের নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পুনরায় সংসদে নির্বাচিত হন।