পরীক্ষা চলাকালেও বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ইচ্ছেমতো আসা-যাওয়ার অভিযোগ

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৭ আগu ২০২৬ ০৬:৩৪ অপরাহ্ণ   |   ৬৫ বার পঠিত
পরীক্ষা চলাকালেও বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ইচ্ছেমতো আসা-যাওয়ার অভিযোগ

মোঃ আলমগীর হোসাইন হৃদয়, জামালপুর প্রতিনিধি:

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৪৩ নম্বর ফুলজোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চলাকালেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিয়াদুল ইসলামের অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক, বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে দেরিতে আসেন এবং দুপুরের আগেই বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
 

জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৮ সালে। ৮৮ বছরের পুরোনো এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১০৮ জন। এর মধ্যে ৩৮ জন উপবৃত্তি পায় এবং একজন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন চারজন। তবে একজন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত থাকায় বর্তমানে তিনজন শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান করছেন।
 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষক সংকটের মধ্যেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
 

সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চললেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিয়াদুল ইসলাম বিদ্যালয়ে উপস্থিত নেই। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, তিনি সকাল ১১টার দিকে অফিসের কাজের কথা বলে বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। ওই দিন পরীক্ষা শুরু হয় দুপুর সাড়ে ১২টায় এবং চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এর আগের দিন সোমবারও তিনি দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
 

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। বিদ্যালয়ে এলেও সকাল ১১টা বা ১২টার মধ্যে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে চলে যান। তবে সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসান ও মোছা. মহসিনা আক্তার নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।
 

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, দুইজন শিক্ষক তাদের ক্লাস নেন। প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে থাকেন না বলেও অভিযোগ করে সে।
 

এদিকে বিদ্যালয়ের স্লিপের বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বরাদ্দ পেলেও সেই অর্থে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, স্লিপের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়, সে বিষয়ে তাঁরা অবগত নন; এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষকই সিদ্ধান্ত নেন।
 

বিদ্যালয়ের উপস্থিতির চিত্রও উদ্বেগজনক। নিবন্ধিত ১০৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে প্রায় ৫০ জন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পাঠদান তদারকির দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের হলেও তাঁর বিরুদ্ধেই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। শিক্ষক সংকটের মধ্যে তাঁর অনুপস্থিতি পাঠদান কার্যক্রমকে আরও ব্যাহত করছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
 

এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিয়াদুল ইসলাম মাদারগঞ্জ উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী মৌসুমী আক্তারের স্বামী হওয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে দায়িত্বে গাফিলতি করার সুযোগ পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এ অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিয়াদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিক নম্বর থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
 

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে বিষয়টি জেনে তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।
 

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত উপস্থিতি, প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।