ঢাকায় পানি সংকট মোকাবিলায় ৯২০ কোটি টাকার প্রকল্প

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১১ মে ২০২৬ ০৩:১৮ অপরাহ্ণ   |   ৪৪ বার পঠিত
ঢাকায় পানি সংকট মোকাবিলায় ৯২০ কোটি টাকার প্রকল্প

রাজধানী ঢাকায় ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে ৯২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।

 

‘ইমার্জেন্সি ওয়াটার সাপ্লাই ইন ঢাকা সিটি’ নামে এ প্রকল্পটি মূলত চলমান ও নির্মাণাধীন বড় পানি শোধনাগারগুলো সম্পূর্ণ চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে।

 

স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি (ঢাকা ওয়াসা) সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ইতোমধ্যে প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে।

 

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার পানি সরবরাহব্যবস্থাকে চাপমুক্ত রাখতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

প্রকল্পের মাধ্যমে দৈনিক অতিরিক্ত ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে স্কাডা সিস্টেম স্থাপন করা হবে, যা পাম্প পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করবে।

 

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৯৭৭ মিলিয়ন লিটার পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করে, যা প্রায় দুই কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। এর মধ্যে বড় অংশই আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে।

 

তবে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০২৯ সালের মধ্যে রাজধানীতে পানির চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৮ মিলিয়ন লিটারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এজন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গন্ধর্বপুর ও সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প দুটি নির্মাণাধীন রয়েছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

 

ততদিন পর্যন্ত চলমান জরুরি প্রকল্পের আওতায় বিপুল সংখ্যক গভীর নলকূপ সংস্কার ও প্রতিস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি শত শত পাম্প সেট, ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি ড্রাইভ এবং স্কাডা প্রযুক্তি স্থাপন করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিক করা হবে।

 

এছাড়া আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন, নতুন পাম্প হাউস নির্মাণ এবং বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পানি মান ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অনেক বেশি স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন থাকবে, বিশেষ করে বড় শোধনাগারগুলো সম্পূর্ণ চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত।