হেলিকপ্টারে মাগুরা যাওয়া নিয়ে সারজিসের প্রতিক্রিয়া: ‘সিট খালি ছিল’

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৫ মার্চ ২০২৫ ০৪:০০ অপরাহ্ণ   |   ১৩৬ বার পঠিত
হেলিকপ্টারে মাগুরা যাওয়া নিয়ে সারজিসের প্রতিক্রিয়া: ‘সিট খালি ছিল’

ঢাকা প্রেস নিউজ

 

ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করা শিশুটির জানাজায় অংশ নিতে পুলিশের হেলিকপ্টারে মাগুরা যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ কয়েকজন নেতা। এই সময় তাদের হেলিকপ্টার থেকে নামতে দেখা যায় এবং কিছু সময় পরে কক্ষে সোফায় বসে ফোন ব্যবহার করতে বা কথা বলতে দেখা যায়। একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যায়, যার পর হেলিকপ্টারে ভ্রমণের জন্য তাদের সমালোচনা করা হয়।
 

এ নিয়ে সারজিস আলম আজ শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন। তিনি লেখেন, ‘‘চলুন সোজাসাপ্টা কিছু আলাপ করি। ওই ফুটেজ নিয়ে আপনারা যে আলাপ করছেন তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।’’ সারজিস জানান, নৃশংস ঘটনা ঘটার পর তিনি দ্রুত পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে আসামি গ্রেপ্তারের জন্য তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি, হাইকোর্ট থেকে ধর্ষণের বিচার প্রক্রিয়া ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ আসে, যার পর তিনি আরও একটি মতামত জানান। তার মতে, ১৮০ দিন অনেক বেশি, এটি ১-২ মাসের মধ্যে শেষ হওয়া উচিত, না হলে অপরাধের শাস্তি সমাজে যথাযথ প্রভাব ফেলতে পারে না।
 

তিনি আরও জানান, ‘‘এটা এমন নয় যে আমি একাই বিষয়টি জানাই বা আমার কারণেই আইন পরিবর্তন হয়েছে। তবে, আমি মনে করেছি এটা আমার দায়িত্ব, তাই আমি এটি করেছি।’’ সারজিস লিখেছেন, ‘‘ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়নি।’’ এরপর তিনি ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল যান, কিন্তু আইসিইউ-তে যেতে বাধা পান এবং বাইরে থেকে খবর নিয়ে ফিরে আসেন।
 

এনসিপির নেতা সারজিস আরও বলেন, ‘‘যখন জানলাম আছিয়া আর নেই, তখন সিএমএইচ-এ গিয়ে জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য মাগুরা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’’ তিনি জানান, সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের বরাদ্দকৃত হেলিকপ্টারে একাধিক সিট খালি থাকায় তিনি মাগুরায় জানাজায় অংশ নেন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে আসেন। ‘‘তবে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং গণমাধ্যমে আমার এই কার্যক্রম নিয়ে বিচার শুরু হয়ে যায়।’’ তিনি বলেন, ‘‘এটা আমাদের জন্য খুব অদ্ভুত, যখন কিছু করি তখন ফুটেজের দিকে তাকিয়ে বিচার করা হয়, আর কিছু না করলে বলা হয় কিছুই করা হয়নি!’’
 

সারজিস লিখেছেন, ‘‘আপনি যখন কোনও কাজ করেন, তখন বলেন ফুটেজমুখী, আর না করলে বলেন কিছুই করেননি। ডাবল স্ট্যান্ডার্ড কবে একক স্ট্যান্ডার্ডে পরিণত হবে?’’
 

তিনি আরও বলেন, ‘‘যখন জানাজা ছিল সন্ধ্যা সাতটায়, আমরা পৌঁছেছি সাড়ে পাঁচটায়। এই সময়টাতে ফোনের নোটিফিকেশন চেক করেছিলাম, তবে কেউ ছবি তুলে আমাদের অপেশাদার হিসেবে উপস্থাপন করেছে।’’ সারজিস প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আপনারা কীভাবে দেড় ঘণ্টা বসে থাকলে ফোন চেক করবেন না? যদি করেন, তাহলে আপনার এই ভিউখোর মনোভাব কখন শেষ হবে?’’
 

শেষে তিনি বলেন, ‘‘অনলাইনে কিছু বলার আগে, অনুগ্রহ করে অফলাইনে আমাদের জন্য কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। আমরা আপনার ভালো কাজগুলো অনুসরণ করতে আগ্রহী।’’