বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিশুদের মানুষ করার কারিগর আপনারাই। তাই খেয়াল রাখতে হবে, কোনো শিশু যেন নিষ্ঠুর হয়ে না বেড়ে ওঠে। মানুষ, পশু-পাখি কিংবা অন্য যে কোনো জীবের প্রতিই তাদের মানবিক আচরণ গড়ে তুলতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ মানবিক বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব শিক্ষকদের হাতেই।”
তিনি আরও বলেন, “দেশ গড়তে মানবিক সৈনিক প্রয়োজন। আর সেই মানবিক সৈনিক তৈরির দায়িত্ব আপনাদের। শিশুরা মানবিক মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠলে তবেই একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ এখানে এসে মনে হচ্ছে আমি এমন একটি কারখানায় এসেছি, যেখানে মানুষ গড়ার কারিগররা একত্রিত হয়েছেন।”
সারাদেশ থেকে আগত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেন তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের কিছু সীমাবদ্ধতা ও সংকট রয়েছে, যা সরকার ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা করবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে, যাতে তারা অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া প্রতিবছর বর্ষাকালে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গাছ বড় হবে, তোমরাও বড় হবে। গাছই হবে তোমাদের বন্ধু, যা তোমাদের ছায়া ও প্রশান্তি দেবে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং শিক্ষা উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সারাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা শিক্ষার্থী, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান করা হয়।
এ সময় খুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘মোবাইল শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক’ বিষয়ক পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিশুদের পরিবেশনায় গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও নাটকসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা প্রধানমন্ত্রী অতিথি সারিতে বসে উপভোগ করেন।