চট্টগ্রামে ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা: গ্রেপ্তার ৮, অধরা ডেভিড ইমন

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৫ জুলাই ২০২৬ ০৭:০০ অপরাহ্ণ   |   ৪৯ বার পঠিত
চট্টগ্রামে ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা: গ্রেপ্তার ৮, অধরা ডেভিড ইমন

চট্টগ্রাম ব্যুরো

 

চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে আলোচিত এ ঘটনার কথিত মূলহোতা ডেভিড ইমন এখনও গ্রেপ্তার হননি। তাকে আটকের জন্য গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 

বুধবার দুপুরে নগরীর দামপাড়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এসব তথ্য জানান।
 

তিনি বলেন, ডেভিড ইমনের বর্তমান অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে পুলিশের গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত ইউনিট। তিনি দেশে নাকি বিদেশে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
 

পুলিশ জানায়, চকবাজার থানা পুলিশ ও র‍্যাব-৭-এর যৌথ অভিযানে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মো. ইউনুস, ইমরান হোসেন চ্যাং, আকবর হোসেন, মো. সুমন, মো. মনির ওরফে কেহেরমান, মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. নয়ন এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদকে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
 

ঘটনার বিবরণে পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
 

এর দুই দিন পর, গত সোমবার দুপুরে চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডে মরিয়ম হাইটস ভবনে অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
 

এ ছাড়া হামলাকারীরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল।
 

সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, “ডেভিড ইমনসহ এ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি, মনিরের বিরুদ্ধে ৭টি, আকবর ও সুমনের বিরুদ্ধে ৬টি করে এবং ইউনুসের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, মানবপাচার, চোরাচালান, ডাকাতি, চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারার অভিযোগ রয়েছে।