হাসিল দেওয়ার পরও কৃষককে মারধরের অভিযোগ, ইউএনও কার্যালয় ও হাট অফিস ঘেরাও

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:১৮ অপরাহ্ণ   |   ৫২ বার পঠিত
হাসিল দেওয়ার পরও কৃষককে মারধরের অভিযোগ, ইউএনও কার্যালয় ও হাট অফিস ঘেরাও

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি


 

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হাটের হাসিলের টাকা দেওয়া নিয়ে এক কৃষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পৌর এলাকার কলেজ বাজারের ২ নম্বর গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
 

মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে তাদের একটি দল কলেজ বাজারে গিয়ে হাট ইজারাদারের কার্যালয় ঘেরাও করে।
 

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার রাজকান্দা গ্রামের কৃষক রনি হোসেনের ছেলে রাকিব হাসান (১৯) কলেজ বাজারে ৪৫ কেজি কচুর মুখি বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজারের ২ নম্বর গেটের কাছে পৌঁছালে হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন তাঁর কাছে ৪০ টাকা হাসিল দাবি করেন। রাকিব ২৫ টাকা হাসিল পরিশোধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
 

অভিযোগ রয়েছে, কিছুদূর যাওয়ার পর প্লাবন তাঁকে আবার ধরে নিয়ে এসে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে রাকিবের হাত থেকে মোবাইল ফোন মাটিতে পড়ে ভেঙে যায়।
 

ঘটনার পর স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ইউএনও আশিক-উর-রহমান আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধানের আশ্বাস দেন।
 

এদিকে ক্ষুব্ধ কৃষকদের আরেকটি দল কলেজ বাজারে গিয়ে হাট ইজারাদারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে পৌর বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
 

মারধরের অভিযোগকারী রাকিব হাসান বলেন, ‘পণ্য বিক্রি করে হাসিল বাবদ ২৫ টাকা দিয়ে আমি বাড়ি ফিরছিলাম। কিন্তু ইজারাদারের লোক প্লাবন আরও ৪০ টাকা দাবি করেন। পরে আমাকে ধরে এনে মারধর করেন এবং আমার মোবাইল ফোনটি ভেঙে যায়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
 

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন। তিনি বলেন, ‘পণ্য বিক্রির পর হাসিলের টাকা কম দিয়ে ওই ব্যক্তি গালিগালাজ করে চলে যাচ্ছিলেন। টাকা চাইতে গেলে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, তবে মারধর করা হয়নি।’
 

কলেজ বাজার হাটের ইজারাদার বাবলু চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। পরে ক্ষুব্ধ লোকজন হাট অফিসে হামলা চালিয়ে আমার ওপর চড়াও হয় এবং আদায়ের টাকার ব্যাগ নিয়ে যায়। বর্তমানে আমি চিকিৎসাধীন।’
 

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, ‘হাটে হাসিল তোলা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ শুনেছি। হাটে চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত হাসিল আদায় কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। হাট ইজারাদারকে হাটের দৃশ্যমান প্রতিটি স্থানে সরকার নির্ধারিত হাসিলের মূল্যতালিকা টাঙানোর জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’