দেশের প্রশ্নে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না: রিজভী

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৪১ অপরাহ্ণ   |   ৮০ বার পঠিত
দেশের প্রশ্নে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আপস বা আত্মসমর্পণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
 

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটরিয়ামে আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
 

রিজভী বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের লড়াই করছি, সবকিছু করছি। কিন্তু দেশের প্রশ্নে, জাতির প্রশ্নে আমরা কখনোই আত্মসমর্পণ করব না। আমাদের অস্তিত্ব ও ভূমি রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।’
 

আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচাগ্র মেদিনী’—এই চেতনা নতুন করে সামনে এসেছে। জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বা চুক্তি মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 

রিজভী বলেন, আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডকে শুধু একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখলে হবে না। তার ফেসবুক পোস্টের প্রতিটি বক্তব্য ছিল দেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। যারা বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আবরারের বক্তব্য ছিল প্রতিবাদের প্রতীক।
 

তিনি আরও বলেন, আবরারকে হত্যা করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কথা বলার সাহস না পায়। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বরং আবরারের আত্মত্যাগ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধের চেতনা আরও শক্তিশালী করেছে।
 

রিজভীর ভাষায়, ‘আবরার এ দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির এক অনন্য উজ্জ্বল প্রতীক। এই প্রতীককে কেউ অবগুণ্ঠিত বা কুণ্ঠিত করতে পারবে না।’
 

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পতাকা রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তির সব সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
 

আলোচনা সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল প্রথম প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। সেদিন ছাত্রলীগের বাধা ও হুমকি উপেক্ষা করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রতিবাদে অংশ নেন বলে দাবি করেন তিনি।
 

রাকিব আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার অনেকগুলোর যথাযথ নথি বা সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি দাবি করেন। ২০২৪ সালে গুম কমিশন গঠনের পর বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গুম ও নির্যাতনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
 

আবরার হত্যার জন্য তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকে দায়ী করে রাকিব বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাদের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে আবরার হত্যাসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
 

এ সময় ছাত্রলীগের চিহ্নিত নেতাকর্মীদের তালিকা করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানান ছাত্রদল সভাপতি। কারাগার থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুন্তাসির আল জেমির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরও গ্রেপ্তার এড়িয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তিনি।
 

আলোচনা সভায় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।