নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০৩ অপরাহ্ণ   |   ৫৯ বার পঠিত
নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

নরসিংদী শহরের পশ্চিমকান্দাপাড়ায় একটি বাসার জানালার গ্রিল কেটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
 

শহরের সেবাসংঘ দুর্গামন্দিরসংলগ্ন নরেশ চন্দ্র সাহার সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সুখন চৌধুরী সপরিবারে দুর্গাপূজা উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সুখন চৌধুরী স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার গুহিয়ালা গ্রামে গ্রামের বাড়িতে যান। এ সময় বাসাটি তালাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার রাতে নরসিংদীর বাসায় ফিরে তিনি সামনের দরজা বন্ধ দেখতে পান। তবে পেছনের জানালার গ্রিল কাটা ছিল। বাড়ির মালিকের সহযোগিতায় ভেতরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, আলমারি ভাঙা এবং ঘরের বিভিন্ন মালামাল এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পরে আলমারিতে রাখা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার খুঁজে পাননি তিনি।
 

সুখন চৌধুরী গত পাঁচ বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি নরসিংদীর বাবুরহাটের শেখেরচর এলাকায় ইভা ডাইং কারখানায় রং মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার গুহিয়ালা গ্রামের মতীন্দ্র চৌধুরীর ছেলে।
 

ভুক্তভোগী সুখন চৌধুরী জানান, একটি ডাইং কারখানা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। এ জন্য গ্রামের বাড়ির জমি ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে পাওয়া ২৫ লাখ টাকা, বন্ধুর কাছ থেকে ধার নেওয়া ১০ লাখ টাকা এবং নিজের উপার্জন থেকে সঞ্চয় করা আরও ১৫ লাখ টাকা মিলিয়ে মোট ৫০ লাখ টাকা বাসায় রেখেছিলেন। কারখানা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এ কারণে পুরো টাকাই একসঙ্গে করে বাসায় সংরক্ষণ করেছিলেন তিনি।
 

এ ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
 

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন জানান, ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।