ক্রিকেট ক্যাপ্টেন থেকে রূপালী পর্দার সম্রাট: প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৫:২২ অপরাহ্ণ   |   ৭৭ বার পঠিত
ক্রিকেট ক্যাপ্টেন থেকে রূপালী পর্দার সম্রাট: প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র

বিনোদন ডেস্ক:
 


রূপালী পর্দার নবাবখ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র আর নেই। ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। অভিনয়ই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান; জীবদ্দশায় এ শিল্পের বাইরে অন্য কিছু ভাবতেন না তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন রূপালী পর্দার সম্রাট হিসেবে।
 

অভিনয়ে আসার আগে প্রবীর মিত্র ছিলেন একজন পুরোদস্তুর ক্রীড়াবিদ। ২০১৯ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেটে খেলেছেন এবং একসময় দলের ক্যাপ্টেন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি হকিতেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন তাঁর ছিল না; খেলাধুলার মধ্যেই জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন। তবে হঠাৎ করেই অভিনয় যেন চুম্বকের মতো তাঁকে টেনে নেয় রূপালী পর্দার দিকে।
 

পরিচালক এইচ আকবরের হাত ধরে ১৯৬৯ সালে ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান প্রবীর মিত্র। বন্ধু এটিএম শামসুজ্জামানের সহায়তায় তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। ছবিটি ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি মুক্তি পায়। এই সিনেমার মাধ্যমেই নায়ক ফারুকেরও বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল।
 

ক্যারিয়ারের শুরুতে নায়ক হিসেবেই অভিনয় করেন প্রবীর মিত্র। ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক, যা তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। পরবর্তীতে বেশ কিছু চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের পর গত শতকের আশির দশকে তিনি চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করেন।
 

প্রবীর মিত্র অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘শঙ্খচিল’ মুক্তি পায় ২০১৬ সালে। ভারতের প্রখ্যাত নির্মাতা গৌতম ঘোষ পরিচালিত এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে ছিলেন কলকাতার অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন ঢাকার কুসুম শিকদার। এরপর অসুস্থতার কারণে আর পর্দায় ফেরা হয়নি তাঁর, যদিও সুস্থ হয়ে অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা ছিল এই গুণী শিল্পীর।
 

জীবনের শেষভাগে দীর্ঘদিন আর্থ্রাইটিস, বিশেষ করে হাঁটুর তীব্র ব্যথায় ভুগেছেন প্রবীর মিত্র। অসুস্থতার কারণে তাঁকে দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি ও প্রায় নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করতে হয়। পরবর্তীতে অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হয়ে তাঁর হাড়ে ক্ষয় ধরেছিল। তবুও বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান ও স্মরণীয় অভিনয় চিরকাল দর্শকের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।