মুরাদনগরে আবাসিক এলাকায় অবৈধ চুন কারখানা: নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছড়াচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৪৬ অপরাহ্ণ   |   ৬২ বার পঠিত
মুরাদনগরে আবাসিক এলাকায় অবৈধ চুন কারখানা: নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছড়াচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা):

 

 

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় পরিবেশ অধিদফতরের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে চুন কারখানা। এসব কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ও ঘন কালো ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। দীর্ঘদিন ধরে এই দূষণের শিকার হয়ে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কুলুবাড়ী এলাকায় বসতবাড়ির মাঝেই চুন পোড়ানোর কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই দিনের পর দিন কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।

 

এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন চুন পোড়ানোর সময় নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া আশপাশের ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, চোখ জ্বালা, মাথাব্যথা, বমিভাব ও ত্বকের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

 

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতের বেলায় ধোঁয়ার মাত্রা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। জানালা-দরজা বন্ধ রেখেও দুর্গন্ধ সহ্য করা যায় না। শিশুদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়।”

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের তুলনায় রাতের বেলায় কারখানার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়। এতে নজরদারি এড়িয়ে নির্বিঘ্নে চুন পোড়ানো সম্ভব হয় বলে তারা মনে করছেন। ফলে রাতে ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

 

এলাকাবাসী জানান, দূষণজনিত অসুস্থতার কারণে অনেক পরিবারকে নিয়মিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের সংচাইল গ্রামের বাসিন্দা মোমেন মিয়া কোম্পানীগঞ্জ বাজারের আরএফএল ব্যবসায়ী মামুন মিয়ার কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া জমিতে এই চুন কারখানাটি স্থাপন করেন। তবে কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতরের কোনো অনুমোদন বা ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব বলেন, “আবাসিক এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি নেই। মুরাদনগরের চুন কারখানার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পেলে সরেজমিন তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

এদিকে এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ চুন কারখানাটি আবাসিক এলাকা থেকে অপসারণ করে নির্ধারিত শিল্প এলাকায় স্থানান্তর করতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে অবৈধ শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেবে।