হিজড়া ‘গুরুমা’ মৌসুমী হত্যা: গ্রেপ্তার মোমিনের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:২০ অপরাহ্ণ   |   ৭৫ বার পঠিত
হিজড়া ‘গুরুমা’ মৌসুমী হত্যা: গ্রেপ্তার মোমিনের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

 

চট্টগ্রাম নগরের হিজড়া সম্প্রদায়ের একাংশের গুরুমা মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মো. মোমিন ওরফে শেখ রনি (৩৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে অর্থের জন্য মৌসুমীর কাছে যাওয়ার পর আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করেন মোমিন।
 

গ্রেপ্তার মোমিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার সব্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার পাঠানপাড়া এলাকায় হিজড়া নেত্রী ফাল্গুনীর বাড়িতে বসবাস করতেন। স্থানীয়ভাবে তাঁকে ফাল্গুনী হিজড়ার কথিত স্বামী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়।
 

পুলিশ জানায়, গত শনিবার সকালে নগরের আমবাগান রেলওয়ে কলোনি-সংলগ্ন হিজড়া কলোনির নিজ বাসা থেকে মৌসুমীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি বাসায় একাই থাকতেন। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
 

ঘটনার পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোমিনকে শনাক্ত করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে এক যুবককে রাতে মৌসুমীর বাসায় প্রবেশ করতে এবং ভোরে বের হয়ে যেতে দেখা যায়।
 

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, মোমিন অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়া খেলে টাকা হারানোর পর তিনি প্রায়ই মৌসুমীর কাছে অর্থ চাইতেন। মৌসুমীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ছিল।
 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে মোমিন মৌসুমীর বাসায় যান। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করার পর তিনি টাকা চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পায়জামার সুতা দিয়ে মৌসুমীর গলায় ফাঁস দিয়ে তাঁকে হত্যা করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন মোমিন।
 

ওসি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি উঠে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদে মোমিন হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
 

সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোমিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান ওসি।
 

ময়নাতদন্ত শেষে মৌসুমী হিজড়ার লাশ রেলওয়ে কলোনি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।