বড় মেয়ের আত্মত্যাগের গল্পে দর্শক মুগ্ধ, ‘ঝরা বকুল’-এর ভিউ এক কোটির ঘরে

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২২ জুন ২০২৬ ০৬:১৩ অপরাহ্ণ   |   ৪৬ বার পঠিত
বড় মেয়ের আত্মত্যাগের গল্পে দর্শক মুগ্ধ, ‘ঝরা বকুল’-এর ভিউ এক কোটির ঘরে

বিনোদন ডেস্ক

 

ঈদ উপলক্ষে নির্মিত পারিবারিক নাটক ‘ঝরা বকুল’ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দরিদ্র পরিবারের বড় মেয়ের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত নাটকটি মুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই ইউটিউবে এক কোটি (১০ মিলিয়ন) ভিউ অর্জন করেছে।
 

পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকু পরিচালিত নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র মনিরা। একটি দরিদ্র পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে পরিবারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ায় তার ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ের বিষয়টি বারবার পিছিয়ে যায়। এমনকি সংসারের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তার মা-ও মেয়ের বিয়ের বিষয়ে আগ্রহ দেখান না। তবে মনিরাকে ভালোবাসে কবির। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি।
 

নাটকে মনিরা চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল এবং কবির চরিত্রে দেখা গেছে ইয়াশ রোহানকে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডলি জহুর, রোজী সিদ্দিকী ও গোলাম ফরিদা ছন্দাসহ আরও অনেকে।
 

গত ৩ জুলাই রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাওয়া নাটকটি সোমবার পর্যন্ত এক কোটি ভিউ অতিক্রম করেছে। নাটকটি নিয়ে ১১ হাজারেরও বেশি মন্তব্য করেছেন দর্শকরা। বেশিরভাগ মন্তব্যেই গল্পের বাস্তবতা এবং শিল্পীদের অভিনয়ের প্রশংসা করা হয়েছে। অনেক দর্শক নাটকটির দ্বিতীয় পর্ব নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছেন।
 

দর্শক জসিম উদ্দিন মন্তব্য করেছেন, “কিছু ভালোবাসা কাছে আসে না, তবুও সারাজীবন হৃদয়ে বকুল ফুলের সুবাস হয়ে বেঁচে থাকে। ‘ঝরা বকুল’ ঠিক তেমনই একটি গল্প। মেয়েটির অভিনয়ে আমি মুগ্ধ।”
 

সীমা আক্তার লিখেছেন, “মনিরার মতো অনেক মেয়ে আছে, কিন্তু মনিরার মতো মেয়েরা কখনো কবিরের মতো জীবনসঙ্গী পায় না।”
 

অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামালের অভিনয়ের প্রশংসা করে সাজিয়া পায়েল লিখেছেন, “জানি না মানুষ সুনেরাহকে নিয়ে এত খারাপ মন্তব্য কেন করে। তার কণ্ঠ, চেহারা সবই আলাদা। বড়লোকের মেয়ে থেকে শুরু করে গরিব পরিবারের মেয়ে—সব ধরনের চরিত্রেই তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন।”
 

অন্যদিকে সুমন শেখের ভাষ্য, “থার্ড ক্লাস নাটক দেখতে দেখতে অবশেষে এমন একটি নাটক দেখলাম, যার স্ক্রিপ্ট সত্যিই দারুণ। এ ধরনের নাটক দেখতে ভালো লাগে।”
 

নাটকটির প্রযোজক জামাল হোসেন বলেন, দর্শকরা দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের রোমান্টিক ও হালকা বিনোদনধর্মী নাটক দেখে ক্লান্ত। বাস্তবধর্মী পারিবারিক গল্পে তারা নিজেদের জীবনের প্রতিফলন খুঁজে পান বলেই এ ধরনের নাটক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
 

নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকু বলেন, “আমি সব সময় পারিবারিক গল্পকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি। মানুষ যখন নাটকের চরিত্র ও ঘটনাগুলোর মধ্যে নিজেদের খুঁজে পায়, তখন সেই গল্প সহজেই তাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। ‘ঝরা বকুল’-এর জনপ্রিয়তার পেছনেও এটিই বড় কারণ।”