পাকিস্তানে ৪০০ রুপি ছাড়াল ডিজেল-পেট্রোলের দাম

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০২ মে ২০২৬ ০৩:২০ অপরাহ্ণ   |   ৩৭ বার পঠিত
পাকিস্তানে ৪০০ রুপি ছাড়াল ডিজেল-পেট্রোলের দাম

পাকিস্তানে জ্বালানির দাম নতুন করে বাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ২৯ এপ্রিল প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৬ দশমিক ৫১ রুপি এবং হাইস্পিড ডিজেলের দাম ১৯ দশমিক ৩৯ রুপি বাড়ানো হয়েছে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং আগামী ৮ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সংশোধিত দর অনুযায়ী হাইস্পিড ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে লিটারপ্রতি ৩৯৯ দশমিক ৫৮ রুপি, যা আগে ছিল ৩৮০ দশমিক ১৯ রুপি। অন্যদিকে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৯৯ দশমিক ৮৬ রুপি, যা পূর্বে ছিল ৩৯৩ দশমিক ৩৫ রুপি। ডিলার কমিশন ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পাম্প পর্যায়ে জ্বালানির দাম ৪০০ রুপির সীমা অতিক্রম করেছে।

সরকার বলছে, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী, কৃষক এবং পরিবহন খাতে ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সমন্বয় করেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে পেট্রোলিয়াম লেভি থেকে ১ দশমিক ৪৬৮ ট্রিলিয়ন রুপি আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে বিশেষ করে ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেশি পড়ছে, কারণ পরিবহন খাতে এই জ্বালানির ব্যবহার বেশি এবং এটি সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করে।

ভর্তুকি ব্যবস্থায় দুই চাকার যানবাহনের জন্য প্রতি লিটারে ১০০ রুপি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা মাসে সর্বোচ্চ ২০ লিটার পর্যন্ত প্রযোজ্য। এতে ভর্তুকি পরবর্তী পেট্রোলের কার্যকর দাম প্রায় ৩০০ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৫ টাকার সমান।

এছাড়া ট্রাক, বড় যানবাহন ও আন্তঃনগর পরিবহনের জন্য মাসভিত্তিক নির্দিষ্ট ভর্তুকি ঘোষণা করা হয়েছে, যা ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ রুপি পর্যন্ত। সরকার একই সঙ্গে ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করেছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ১০ বিলিয়ন থেকে ৬৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে লোডশেডিং বৃদ্ধি এবং শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।