অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৪৫ অপরাহ্ণ   |   ৪৪ বার পঠিত
অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা প্রেস ডেস্ক:
 

চট্টগ্রামে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন.....
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে বর্তমানে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইনে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না উল্লেখ করে বলেন, সব ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে এবং সেই দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
 

অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ সদস্যরা মাঝেমধ্যে অপরাধীদের হামলার শিকার হন। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। অপরাধীদের দমনে পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ আসামি গ্রেপ্তারে বাধা দিলে কিংবা অপরাধীকে সহায়তা করলে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

সাইবার অপরাধ দমনে আট বিভাগে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল দুনিয়া ও সাইবার স্পেস ব্যবহার করে প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি এমনকি শেয়ারবাজারে কারসাজির মতো অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ শনাক্ত, তদন্ত ও প্রতিরোধে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের বিকল্প নেই।
 

তিনি জানান, দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল বিশ্লেষণের সক্ষমতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার শুরু থেকেই পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে উদ্বোধন করা ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবটি সিআইডির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের মধ্যে আন্তবিভাগীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
 

তিনি আরও বলেন, অপরাধের পরিবর্তিত ধরন মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে হবে। এ লক্ষ্যে ল্যাবরেটরি সুবিধা, লজিস্টিকস ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের কাছ থেকেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
 

চট্টগ্রামে সিআইডির সাইবার অফিস ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোইকা) সহযোগিতা করেছে। এ জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়া সরকার, দেশটির রাষ্ট্রদূত, কোইকার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দলের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনসহ পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
 

জঙ্গল সলিমপুরের সমস্যা সমাধানে হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান

এদিকে, বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
 

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে।
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আইনানুগ কার্যক্রম জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।
 

সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জঙ্গল সলিমপুরের বিদ্যমান সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং এসব সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেন।