আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়: ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন বহাল

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৬ মার্চ ২০২৫ ০১:০৪ অপরাহ্ণ   |   ১২৭ বার পঠিত
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়: ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন বহাল

ঢাকা প্রেস নিউজ

 

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
 

রোববার বেলা ১১টায় বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা:
১. মেহেদী হাসান রাসেল (সিই, ১৩তম ব্যাচ) ২. মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল, ১৫তম ব্যাচ) ৩. অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল, ১৫তম ব্যাচ) ৪. মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস, ১৬তম ব্যাচ) ৫. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন, ১৫তম ব্যাচ) ৬. ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল, ১৬তম ব্যাচ) ৭. মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ) ৮. মোজাহিদুর রহমান (ইইই, ১৬তম ব্যাচ) ৯. হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই, ১৭তম ব্যাচ) ১০. এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই, ১৭তম ব্যাচ) ১১. শামীম বিল্লাহ (মেরিন, ১৭তম ব্যাচ) ১২. মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই, ১৭তম ব্যাচ) ১৩. খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ) 14. মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই, ১৬তম ব্যাচ) ১৫. এস এম নাজমুস সাদাত (এমই, ১৭তম ব্যাচ) ১৬. মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই, ১৭তম ব্যাচ) ১৭. মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোর্সেস, ১৬তম ব্যাচ) ১৮. শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) ১৯. মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) ২০. এস এম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)

 

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা:
১. মুহতাসিম ফুয়াদ (সিই, ১৪তম ব্যাচ) ২. ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ) ৩. অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) ৪. আকাশ হোসেন (সিই, ১৬তম ব্যাচ) ৫. মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭তম ব্যাচ)

 

মামলার পটভূমি:
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে। রাত ৩টার দিকে হলের সিঁড়ির করিডোর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। ফেসবুকে ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

 

হত্যার পরদিন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার বিচারিক আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
 

আপিল ও হাইকোর্টের রায়:
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১০ ফেব্রুয়ারি শুনানি শুরু হয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। অবশেষে হাইকোর্ট রায় বহাল রাখেন।

 

এই মামলার তিন আসামি— এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মাহমুদুল জিসান ও মুজতবা রাফিদ— শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।