গলফে সমঝোতা সৌদি আরব–যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশকালঃ ০৮ জুন ২০২৩ ০৩:০০ অপরাহ্ণ ৮৬ বার পঠিত
গলফে সমঝোতা সৌদি আরব–যুক্তরাষ্ট্র

মামলা, নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা, রেষারেষি আর মানহানি—কত কিছুই ঘটে গেল মাঝখানে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পিজিএ ট্যুর ও ইউরোপের ডিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর, অন্যদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তহবিলে চালু হওয়া এলআইভি গলফ সার্কিট। দুই বছর ধরে চলা গলফ বিশ্বের এই ‘গৃহযুদ্ধ’ অবশেষে শান্তিপূর্ণ উপায়ে থেমেছে।

পিজিএ ট্যুর ও ডিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর কর্তৃপক্ষ এলআইভির সঙ্গে একত্র হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নাটকীয় এ বিবৃতিতে দুই পক্ষের সমঝোতাকে ‘মাইলফলক’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটি ‘গলফকে বৈশ্বিকভাবে ঐক্যবদ্ধ’ করবে। উভয় পক্ষের একত্রে পথচলার মঞ্চ বা সংস্থার নাম কী হবে, সেটি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

২০২১ সালের অক্টোবরে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয় এলআইভি গলফ। এতে রেকর্ড পরিমাণ আড়াই কোটি মার্কিন ডলার পার্স ও আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, যা গলফ তারকাদের ব্যাপকভাবে আকর্ষণ করে। এতে অংশ নেন ফিল মিকেলসন এবং ব্রুকস কোয়েপকার মতো তারকা গলফাররা। তবে টাইগার উডস, ররি ম্যাকলরয়রা থেকে যান পিজিএ ট্যুরের সঙ্গেই।


সমালোচকদের মতে, ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরব নিজেদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নয়নে যে ‘স্পোর্টসওয়াশ’ চালু করেছিল, সেটিরই অংশ এলআইভি গলফ। এতে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের সে সময় নিষিদ্ধ করেছিল পিজিএ ট্যুর, আর ডিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর করেছিল মোটা অঙ্কের জরিমানা। ভুক্তভোগী খেলোয়াড়েরা আইনের দ্বারস্থও হন তখন।

সেই এলআইভির সঙ্গে একত্র হওয়ার ঘোষণায় পিজিএ ট্যুরের কমিশনার জে মোনাহন বলেছেন, ‘দুই বছর ধরে চলে বাধাবিপত্তি ও ঝঞ্ঝাটের পর আমাদের ভালোবাসার খেলাটার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দিন।’


তবে পিজিএ ট্যুরের এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ অনেকেই। এলআইভির সঙ্গে সমঝোতাকে মোনাহনের ‘নাইন-ইলেভেন’ সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মন্তব্য করেন নাইন-ইলেভেন ফ্যামিলিজ ইউনাইটেডের চেয়ারম্যান টেরি স্ত্রাদা। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে যে সন্ত্রাসী হামলা হয়, ১৯ হামলাকারীর ১৫ জনই ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক। এখন সৌদি আরবের গলফ লিগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে মোনাহন ও পিজিএ ‘দ্বিচারিতা ও লোভ’ দেখিয়েছে বলে অভিযোগ নাইন-ইলেভেন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠনটি।

পাশাপাশি গলফারদের কাছ থেকেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন পিজিএ ট্যুর কমিশনার। এ সপ্তাহের কানাডিয়ান ওপেনকে সামনে রেখে যে বৈঠক হয়, সেখানে ক্ষুব্ধ গলফারদের তোপের মুখে পড়েন মোনাহন। এ বিষয়ে নিজেই বলেছেন, ‘আমি জানি লোকে আমাকে দ্বিচারী বলবে, তবে পরিস্থিতি তো বদলায়।’

পিজিএ ট্যুর ও এলআইভির সমন্বয়ে যে সংস্থা তৈরি হবে, সেটির বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান থাকবেন সৌদি পিআইএফ গভর্নর ইয়াসির আল-রুমাইয়ান, মোনাহন হবেন প্রধান নির্বাহী।