সিঙ্গাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ১১ বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেপ্তার

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ   |   ৩৭ বার পঠিত
সিঙ্গাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ১১ বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক


 

সিঙ্গাপুরের উডল্যান্ডস এলাকার একটি আবাসিক ডরমিটরিতে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের সন্দেহে অভিযান চালিয়ে ১২ জন অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। আটককৃতদের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক। বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরের সেন্ট্রাল নারকোটিকস ব্যুরো (সিএনবি) এ অভিযান পরিচালনা করে।
 

শনিবার দ্য স্ট্রেইটস টাইমস–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার শ্রমিকদের বয়স ২৩ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। শুক্রবার সিএনবির এক বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের মধ্যে ৩৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সেবনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
 

চার ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে সিএনবির পাশাপাশি হেলথ সায়েন্সেস অথরিটি, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্টস অথরিটি, জনশক্তি মন্ত্রণালয় ও পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। ২৭ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে সিএনবির সদরদপ্তরে অভিযানের বিস্তারিত ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাত ১২টার আগেই কর্মকর্তারা চিহ্নবিহীন গাড়িতে করে উডল্যান্ডসের ডরমিটরিতে প্রবেশ করেন। অভিযান পর্যবেক্ষণে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়।
 

অভিযানের সময় ডরমিটরির একটি কক্ষে চারজন শ্রমিককে হাত বাঁধা অবস্থায় নীরবে বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের লাগেজ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি করা হয়। পরে আরেক শ্রমিককে হাতকড়া পরা অবস্থায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অন্য একটি কক্ষ থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যেখানে কাঁচের বোতল, কাটা স্ট্র, রাবারের টিউবসহ মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এসব সামগ্রী পরবর্তীতে প্রমাণ হিসেবে সিল করা হয়।
 

সিএনবির ডেপুটি কমান্ডিং অফিসার সুপারিনটেনডেন্ট জ্যান্থাস টং হিয়েং জি বলেন,

“মাদক সেবন, পাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই— সিঙ্গাপুরে মাদকের কোনো স্থান নেই।”

সিএনবির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরে মোট ৩ হাজার ১১৯ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা ২০২৩ সালে গ্রেপ্তারকৃত ৩ হাজার ১২২ জনের তুলনায় সামান্য কম।


📌 উল্লেখ্য: সিঙ্গাপুরে মাদক সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ অত্যন্ত কঠোর, এবং বিদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হতে পারে।