মো: কাউছার সরকার,বিশেষ প্রতিনিধি (কুমিল্লা):-
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে কৃষকের ফসলি জমিতে নৃশংসতার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের কৃষক শহীদ মিয়ার ৬০ শতাংশ জমিতে চাষ করা লাল শাক ও ডাটা শাক কীটনাশক ছিটিয়ে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী সোহেলের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। কৃষক শহীদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে শাকসবজি চাষ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতেন। কয়েক মাসের পরিশ্রমে তার জমিতে উৎপাদিত লাল শাক ও ডাটা শাক বর্তমানে বাজারে বেশ চাহিদাসম্পন্ন হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে ওই শাকসবজি পাইকারি ক্রয় করেন স্থানীয় আরেক ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া। ফারুক প্রায় ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে শহীদের জমির পুরো শাক কিনে নেন।
এদিকে একই গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী সোহেলও শাক কিনতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ফারুক আগেই ক্রয় করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে কৃষক শহীদের সঙ্গে এ নিয়ে সোহেলের তর্ক-বিতর্ক হয়। সোহেল শহীদকে হুমকি দিয়ে বলেন, “এ সবজি কোথায় বিক্রি করবে, আমি দেখে নেব।” এই হুমকির পর থেকেই আশঙ্কিত ছিলেন শহীদ মিয়া।
অভিযোগ অনুযায়ী, হুমকির পরদিন রাতেই ফসলি জমিতে আগাছা নিধনের শক্তিশালী কীটনাশক ছিটিয়ে দেন সোহেল। এর ফলে জমির সব শাক মুহূর্তেই ঝলসে যায়। কৃষক শহীদ মিয়া ও ক্রেতা ফারুক জানান, তারা রাতে ফসল পাহারা দেওয়ার সময় দূর থেকে সোহেলকে জমির ভেতর ঘোরাফেরা করতে দেখেন। ভোর রাত চারটার দিকে ফারুক নিজ চোখে অভিযুক্ত সোহেলকে জমি থেকে বের হয়ে বাড়ির দিকে যেতে দেখেন।
কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, “আমার কয়েক মাসের পরিশ্রম এক রাতে ধ্বংস হয়ে গেল। বাজারে শাকের প্রচুর চাহিদা ছিল। এই ফসল বিক্রি করে সংসার চালানোর আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন সব শেষ।” ব্যবসায়ী ফারুক জানান, তিনি নগদ টাকা দিয়ে শাক কিনেছিলেন, কিন্তু সব নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এই নেক্কারজনক ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের প্রতিহিংসামূলক কাজ শুধু কৃষকের ক্ষতি নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও মারাত্মক হুমকি। কৃষকরা ভয়ে আছেন, এমন ঘটনা যদি বারবার ঘটে তবে তারা ফসল চাষে নিরুৎসাহিত হবেন।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ফারুক দেবিদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযুক্ত সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোঁজা হচ্ছে।
এখন দেবিদ্বারের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো কৃষক এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন।