হঠাৎ করেই নোরা ফাতেহির ক্যারিয়ারে ছন্দপতন ঘটল। সিনেমা গানে পারফর্ম করে কটাক্ষের শিকার হওয়ার পাশাপাশি পড়লেন আইনি জটিলতায়। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ সিনেমার গান ‘সরকে চুনার তেরি সরকে’। যেখানে নোরাকে পারফর্ম করতে দেখা গেছে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সঞ্জয় দত্তর সঙ্গে। গানটি প্রকাশের পর থেকে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক।
গানের অশালীন কথা এবং কুরুচিকর দৃশ্যায়নের অভিযোগে ধেয়ে আসছে কটাক্ষের তীর। যে কারণে প্রযোজক-প্রকাশকরা বাধ্য হয়ে গানটির হিন্দি সংস্করণ ইউটিউব থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তারপর রেহাই মিলছে না নোরা এবং ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ সিনেমায় শিল্পী ও নির্মাতাদের। গানের বিরুদ্ধে রীতিমতো আইনি লড়াইয়ে নেমেছে ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন।
আজকালসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, সোমবার এক শুনানিতে কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সৃজনশীলতার দোহাই দিয়ে নারীর সম্মান ক্ষুণ্ন করা মোটেই বরদাশত করা হবে না।
যদিও বিতর্কের জেরে ‘সরকে চুনার তেরি সরকে’ গানটির হিন্দি সংস্করণ ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারপরও অভিযোগ উঠেছে যে, গানটির কথা অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ এবং অশ্লীল, যা জনসমক্ষে পরিবেশনের অযোগ্য। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় মহিলা কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে।
সোমবারের শুনানিতে সিনেমার পরিচালক প্রেম, গীতিকার রাকিব আলম এবং প্রযোজনা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন নোরা ফাতেহি। অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর আইনজীবী উপস্থিত হলেও কমিশন তা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। অভিনেত্রীকে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
শুনানি চলাকালীন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন অত্যন্ত অসন্তোষের সঙ্গে বলেন, ‘সৃজনশীলতার নামে নারী মর্যাদার সঙ্গে আপস একেবারেই করা যায় না।’
যদিও ছবির নির্মাতারা দাবি করেছিলেন যে, তারা গানের কথার গভীর অর্থ বুঝতে পারেননি, কিন্তু কমিশন সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে। শেষমেশ নির্মাতারা তাদের ভুলের জন্য লিখিত ক্ষমা চেয়েছেন। আগামী তিন মাস তারা নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কাজ করবেন এবং সেই রিপোর্ট কমিশনে জমা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ‘সরকে চুনার তেরি সরকে’ গানটি প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতের অনেক ব্যক্তিত্বও গানটির নিম্নমানের কথা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এরপরই দিল্লি পুলিশের সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের কাছে গানটি নিষিদ্ধ করার আবেদন জানানো হয়।