সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মনসা পূজাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পটিয়া হাই স্কুল মাঠে বসেছে বৃহৎ পাঁঠার হাট। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বড় আকারের পাঁঠা নিয়ে বিক্রেতারা এখানে জড়ো হয়েছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে জমে উঠেছে হাটের বেচাকেনা। আগামী সোমবার পর্যন্ত এ হাট চলবে বলে জানিয়েছেন ইজারাদার ও পটিয়া পৌর কর্তৃপক্ষ।
আগামী মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মনসা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী পুরাতন থানা হাটের হাই স্কুল মাঠে প্রতিবছরের মতো এবারও বসেছে বড় পাঁঠার বাজার। শুধু পটিয়া নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা হাটে আসছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে বিভিন্ন আকারের পাঁঠা উঠেছে। বড় আকৃতির পাঁঠার দাম হাঁকা হচ্ছে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। পূজা পর্যন্ত এ হাটে কয়েক কোটি টাকার পাঁঠা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিক্রেতারা জানান, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাবনা, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর, ভৈরব, সিলেট, যশোর, সন্দ্বীপসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় আকারের পাঁঠা আনা হয়েছে। বড় পাঁঠা কেনাবেচার জন্য পটিয়ার এই হাটের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে বলেও জানান তারা।
পাবনার ঈশ্বরদী থেকে পাঁঠা নিয়ে আসা বিক্রেতা মো. জসীম বলেন, “আমি ১০০টি পাঁঠা নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে প্রায় ৬০টি বিক্রি হয়ে গেছে। আশা করছি, পূজার আগে সব পাঁঠা বিক্রি হয়ে যাবে।”
আরেক বিক্রেতা খালেক বলেন, “আমি ১০টি পাঁঠা এনেছি। ইতোমধ্যে চারটি বিক্রি হয়েছে। পূজার আগে আরও কয়েক দিন সময় আছে। আশা করছি, বাকি পাঁঠাগুলোও বিক্রি করতে পারব।”
হাটে পাঁঠা দেখতে আসা ক্রেতা তপন দাশ বলেন, “হাটে বড় বড় পাঁঠা এসেছে। আমরা ঘুরে দেখছি। বাজেটের মধ্যে পছন্দের পাঁঠা পেলে আজই কিনব।”
ইজারাদারদের পক্ষ থেকে মিশকাত আহমদ বলেন, “পটিয়ায় যোগাযোগব্যবস্থাসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসছেন।”
অন্যদিকে বুলবুল আহমদ নান্নু বলেন, “হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে কেউ যাতে কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়েন, সেদিকে আমরা নজর রাখছি।”
ইজারাদাররা জানান, মনসা পূজার আগের দিন অর্থাৎ আগামী সোমবার পর্যন্ত হাটে পাঁঠা কেনাবেচা চলবে।