ডেস্ক নিউজ, ঢাকা প্রেস
কবি, শিশুসাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক আখতার হুসেন আর নেই। ‘আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক’—ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের পরিচিত এই গানের রচয়িতা বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
গত চার দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন দেশের এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর জন্ম নেওয়া আখতার হুসেনের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নানা অধ্যায়। তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। একই সঙ্গে শিশুসংগঠন খেলাঘরের সংগঠক হিসেবেও দীর্ঘদিন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সৃজনশীল লেখালেখিতেও ছিল তাঁর বিস্তৃত বিচরণ। ছড়া, গল্প, কবিতা, নাটক ও গানসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি কাজ করেছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক চর্চায় তাঁর সাহিত্যকর্ম ও সাংগঠনিক ভূমিকা তাঁকে স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দেয়।
আখতার হুসেনের লেখা ‘আমরা তো সৈনিক, শান্তির সৈনিক’ গানটি ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের সংগীত হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে গানটি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশিত হয়ে আসছে।
ব্যক্তিজীবনে আখতার হুসেন দুই ছেলে পান্থ হুসেন ও প্রমিত হুসেন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী মল্লিকা হুসেন আগেই মারা গেছেন।
বাবার শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়ে ছোট ছেলে প্রমিত হুসেন বলেন, সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের পাশে বাবাকে দাফন করা হবে।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তেজকুনীপাড়ায় তাঁদের বাসভবনের কাছে রেলওয়ে কলোনি মসজিদে আখতার হুসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে সিরাজগঞ্জে।
সাহিত্যচর্চা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড—দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় আখতার হুসেন ছড়া, গল্প, কবিতা, নাটক ও গানের মাধ্যমে দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে নিজের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। উদীচী ও খেলাঘরের সঙ্গে যুক্ত থেকে সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।