নিহত মাসুক মিয়া (নাম অনুযায়ী) উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মৃত আজিজ মিয়ার ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, গত ১১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে মাসুক মিয়া প্রতিবেশী বলাই দাসকে সঙ্গে নিয়ে ধলাই নদীর ওপারে হকতিয়ারখোলা এলাকায় গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। কাজ শেষে মাথায় ঘাসের বস্তা নিয়ে সাঁতরে নদী পার হওয়ার সময় বলাই দাস নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও মাসুক মিয়া নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা চিৎকার করে অন্যদের খবর দিলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা চালায়। কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ফারুকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় ইউনিটে ডুবুরি দল না থাকায় সিলেট থেকে বিশেষ ডুবুরি দল এনে নদীতে অনুসন্ধান চালানো হয়। দীর্ঘ সময় অভিযান পরিচালনার পরও কোনো সন্ধান না মেলায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
অবশেষে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্বজনদের খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহটি ফুলে ও পচে গেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।