শাসনের একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল কিশোরীর, মায়ের আদালতে স্বীকারোক্তি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১১ জুলাই ২০২৬ ০৩:৪৮ অপরাহ্ণ   |   ৪৪ বার পঠিত
শাসনের একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল কিশোরীর, মায়ের আদালতে স্বীকারোক্তি

খুলনা ব্যুরো

 

খুলনা নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যাকাণ্ডে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা। শুক্রবার তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
 

শনিবার সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
 

পুলিশ কমিশনার জানান, জবানবন্দিতে আরিফা ইয়াসমিন সিমা বলেছেন, একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে নির্জনাকে শাসন করছিলেন তারা। একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় নির্জনাও মায়ের গায়ে হাত তোলেন। পরে পাশের ঘর থেকে একটি লাঠি এনে নির্জনাকে আঘাত করেন তার বাবা আলিম হোসেন আকাশ। নির্জনা সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে লাঠির আঘাত তার মাথায় লাগে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
 

ঘটনার পর প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে নির্জনার মরদেহ বস্তাবন্দি করে নিরালা এলাকার একটি ভবনের সামনে ফেলে রাখা হয় বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।
 

তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে পলাতক বাবা আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের অমতে প্রায়ই বাড়ির বাইরে অবস্থান করায় মেয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তার বাবা। গত বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসায় এ বিষয়গুলো নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ফের বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের একপর্যায়ে নির্জনা নিহত হন।
 

নিহত আরফানা হোসেন নির্জনা খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।