তিন দফা দাবিতে আজ শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন, যমুনায় স্মারকলিপি জমা দিতে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল। এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি মো. আনিসুর রহমান।
আজ সকালে প্রাথমিক শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন। মহাসমাবেশের আয়োজন করে সহকারী শিক্ষক পদে নিবন্ধিত ছয়টি সংগঠনের জোট ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’।
তাদের মূল দাবি হলো:
সহকারী শিক্ষক পদে ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা,
১০ বছর ও ১৬ বছরের উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন,
সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করা।
মহাসমাবেশে বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করীম, এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির।
শিক্ষক প্রতিনিধিরা জানান, ২০০৬ সালের আগে প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে সহকারী শিক্ষকরা চাকরি করতেন। ২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট প্রধান শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপে বৃদ্ধি পেলে, সহকারী শিক্ষকদের এক ধাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পার্থক্য তৈরি হয়। ২০১৪ সালের হাইকোর্ট রায়ের পর প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে নির্ধারিত হয়। ১৬ বছর পর প্রধান শিক্ষকের বেতন দুইটি টাইমস্কেলসহ ২৩ হাজার টাকা হলেও, সহকারী শিক্ষকের বেতন ১১ থেকে ১২,৫০০ টাকায় সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ১৬ বছরের অভিজ্ঞতার পরে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে বেতনের পার্থক্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা।
শিক্ষকরা আরও বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মেধাবী শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকৃষ্ট করতে হলে সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ ও শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।