ঢাকা প্রেস প্রতিবেদক
মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ খাতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। সোমবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ দমনে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগবিষয়ক আরেকটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর মধ্যে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এসব দলিল স্বাক্ষর ও বিনিময়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান নিজ নিজ দেশের পক্ষে দলিল বিনিময় করেন।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। এ সময় আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন। পরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও বিনিময় করা দলিলগুলো দুই দেশের সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বিদ্যমান ইতিবাচক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তিনি আরও বলেন, যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
বাণিজ্য সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি ও আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।