পটিয়ায় আবারও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:১৮ অপরাহ্ণ   |   ৬০ বার পঠিত
পটিয়ায় আবারও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে

আবদুল হাকিম রানা, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:


 

 

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাত নূরের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার অভিযোগের এক সপ্তাহ না পেরোতেই এবার তানিয়া কামাল নিহাত (নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা) নামে আরেক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
 

নিহত তানিয়া কামাল নিহাত পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিণখাইন গ্রামের মো. কামালের মেয়ে।
 

নিহতের মা মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে শাশুড়ি, ননদসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মেয়েকে নির্যাতন ও নিপীড়ন করে আসছিলেন। এ নিয়ে থানা ও স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠকও হয়েছে। সম্প্রতি বিরোধের মীমাংসা হলে কয়েক মাস ধরে তানিয়া স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
 

মোর্শেদা বেগম জানান, তাঁর মেয়ে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গত শনিবার স্বামীর অনুরোধে এক দিনের জন্য তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয়। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে মেয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেও তাঁকে সুস্থ বলে জানতে পারেন তিনি।
 

তবে রাত আনুমানিক ৪টার দিকে জামাতা নুর উদ্দিন ফোন করে জানান, তানিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে না পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান মোর্শেদা বেগম। সেখানে মেয়ের মাথার পেছনে ও গলায় ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।
 

মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
 

অন্যদিকে, নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, রোববার তানিয়া তিনবার বিরিয়ানি খেয়েছিলেন। তাঁদের ধারণা, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
 

নিহতের জা যোবাইদা খানম বলেন, রোববার তানিয়া তিনবার বিরিয়ানি খেয়েছিলেন। রাতে পরিবারের সবাই নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে তানিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর স্বামী ও শাশুড়িসহ তাঁকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে জানান।
 

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, তাঁর জানা মতে, রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তানিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁকে কেউ মারধর করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
 

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
 

তানিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।