পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু অপহরণ, ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চিরকুট

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১৮ জুন ২০২৬ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ   |   ২৩ বার পঠিত
পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু অপহরণ, ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চিরকুট

আবদুল হাকিম রানা, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

 

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকায় মোহাম্মদ জায়হান (৫) নামে এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি হাতের লেখা চিরকুট রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন দুপুরে স্থানীয় গ্যারেজ মালিক মো. শাহজাহানের একমাত্র ছেলে জায়হান বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলছিল। কিছুক্ষণ পর তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে ব্যাপক অনুসন্ধান চালান। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় বাড়ির সামনের পুকুরেও তল্লাশি করা হয়। কিন্তু শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
 

পরদিন বুধবার পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির পরিবার। একমাত্র সন্তান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারে নেমে আসে চরম উদ্বেগ ও শোকের ছায়া।
 

এদিকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরের বিছানার ওপর একটি হাতের লেখা চিঠি দেখতে পান। চিঠিতে শিশুটির বাবাকে উদ্দেশ করে লেখা হয়, তাদের কাছে শিশুটি রয়েছে এবং তাকে ফেরত পেতে হলে ৩ লাখ টাকা দিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশের কাছে না যাওয়ার হুমকি দিয়ে বলা হয়, কোনো ধরনের কৌশল বা প্রতারণার চেষ্টা করা হলে শিশুটিকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না।
 

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নগদ টাকা ও পরিবারের একজনের আনলক করা মোবাইল ফোন একটি ব্যাগে ভরে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশের একটি ভাঙা দোকানে রেখে আসতে হবে। অন্যথায় শিশুটির ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
 

চিরকুট পাওয়ার পর পরিবার ও স্থানীয়রা নিশ্চিত হন যে শিশুটি পরিকল্পিতভাবে অপহরণের শিকার হয়েছে। পরে বিষয়টি পটিয়া থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
 

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিছানায় পাওয়া চিঠিসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
 

তিনি বলেন, “শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”