বিবাহ-তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০১:২২ অপরাহ্ণ   |   ৪৬ বার পঠিত
বিবাহ-তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম ধাপে ধাপে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, অনলাইনে নিবন্ধিত তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করা হলে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
 

শনিবার রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
 

আইনমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অনলাইনে বিবাহ ও তালাকের তথ্য সংরক্ষিত থাকলে কোনো ব্যক্তি আগে বিয়ে করেছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা যাবে। একইভাবে তথ্য গোপন করে কেউ একাধিক বিয়ে করছেন কি না, এনআইডির মাধ্যমে অনুসন্ধান করে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
 

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে আগে থেকেই বিবাহিত হিসেবে পাওয়া গেলে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা যাবে। এতে বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা মিলবে।
 

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলে নিবন্ধিত বিবাহের তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত সম্পর্ক যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে এ ধরনের বিরোধ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা কমতে পারে এবং রাষ্ট্রের ওপরও চাপ কমবে।
 

বিদেশে থাকা বা বিদেশে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি। বিদেশে কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ অনলাইনে নিবন্ধিত তথ্য যাচাই করতে পারবে।
 

এদিকে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রভাব কমাতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, একই জায়গায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কারণে বদলির সময় বিভিন্ন ধরনের তদবির আসে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে নিয়মনীতি অনুসরণ করে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের পোস্টিং লটারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।