সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার, সাইবার হয়রানি ও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার মতো ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর ও শক্তিশালী সাইবার আইন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বক্তারা। তবে সাইবার অপরাধ দমনের নামে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের সুযোগ রাখা যাবে না বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হয়রানি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আইন চূড়ান্ত করার আগে ব্যাপক ও অর্থবহ জনপরামর্শ নিশ্চিত করা, ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’—এ ধরনের অস্পষ্ট শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করা, অনলাইন কনটেন্ট বন্ধ বা সরানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন ও কার্যকর বিচারিক পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা, সরকারের সমালোচনা, ভিন্নমত, সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকে সাইবার অপরাধের আওতায় না আনা এবং নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষায় স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া। সঞ্চালনা করেন ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা। প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে গৃহিণী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ অনেককে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। গাজীপুরে কথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। ওই বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হলেও এ ধরনের গ্রেপ্তার সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সালমান মুক্তাদিরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নকীব বলেন, ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনটি ২০১৮ সালের আইন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ এবং পরবর্তী সংশোধনীর ধারাবাহিকতায় প্রণীত সর্বশেষ সংস্করণ। প্রস্তাবিত আইনে ভুল বা অস্পষ্টতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
সভায় অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানাসহ এবি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা বক্তব্য দেন।