গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে নাতির ধারালো দায়ের কোপে ফেরোজা বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী আব্দুল করিম ভেটু (৭০)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাতি শাকিল আহম্মেদকে (২৩) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের খামার পবনতাইড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফেরোজা বেগম আব্দুল করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী। আটক শাকিল আহম্মেদ একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং আব্দুল করিমের নাতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের একটি জমিতে পাট কাটার সময় পারিবারিক বিরোধের জেরে শাকিল আহম্মেদের সঙ্গে তার দাদি ফেরোজা বেগমের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাকিলের হাতে থাকা ধারালো পাট কাটার দা দিয়ে ফেরোজা বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আব্দুল করিমকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ফেরোজা বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আব্দুল করিম বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত শাকিল আহম্মেদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।