একসময় বিশ্ব ফুটবলে ধারাবাহিক শক্তির নাম ছিল জার্মানি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই দলকে নিয়ে ভয় ছিল প্রতিপক্ষের, ছিল গভীর শ্রদ্ধাও। কিন্তু গত এক যুগ ধরে বড় আসরগুলোতে সেই ধারাবাহিকতা আর দেখা যাচ্ছিল না। গ্রুপ পর্বেই থেমে যাওয়া, অগোছালো পারফরম্যান্স আর নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পুরোনো ঐতিহ্যের সংযোগহীনতা, সব মিলিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল সেই চেনা দাপট।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই পুরোনো রূপে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে জার্মানরা। প্রথম ম্যাচে ৭-১ গোলে কুরাসাওকে হারানো জার্মেনি, আজ আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আধিপত্য নিয়ে খেলতে না পারলেও কামব্যকের গল্প লিখে ২-১ গোলের জয়ে এক যুগ পর নকআউটে পা রাখল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে জার্মানি। একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পেতে ব্যর্থ হয় তারা। এমনকি একবার বল জালে গেলেও ফাউলের কারণে তা বাতিল হয়।
উল্টো সুযোগ কাজে লাগায় আইভরি কোস্ট। ৩০ মিনিটে ফ্রাঙ্ক কেসি বক্সের ভেতর বল পেয়ে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় জার্মানি।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় জার্মানরা। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। ৬৮ মিনিটে নাদিম আমিরির দারুণ ক্রস থেকে গোল করে সমতা ফেরান ডেনিজ উনদাভ।
সমতা ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন উনদাভ। তার দ্বিতীয় গোলেই নিশ্চিত হয় ২–১ গোলের জয়।
তাতে এক ম্যাচ হাতে রেখে এক যুগ পর নকআউট পর্বে উঠেছে জার্মানি। ২০১৪ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে তারা। এবার দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ই গ্রুপ থেকে নিশ্চিত করে শেষ বত্রিশ রাউন্ডে খেলা।