এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা জেলায় সর্বোচ্চ ফলাফল করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে দেবিদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভা। ১ হাজার ২৫০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২১৭ নম্বর পেয়ে জেলায় প্রথম হয়েছে সে।
ফল প্রকাশের পর থেকেই আনন্দে ভাসছে ইভা ও তার পরিবার। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি জেলার সেরা হওয়ার গৌরবও তার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জাকিয়া সুলতানা ইভা দেবিদ্বার উপজেলার বারুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ জামাল হোসেনের মেয়ে। তার বাবা ও মা—মোহাম্মদ জামাল হোসেন এবং শাহিনুর আকতার—দুজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মেয়ের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও মনোযোগ দেখে শুরু থেকেই তারা তাকে উৎসাহ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।
ইভা জানায়, তার এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং নিজের নিয়মিত পরিশ্রম সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। তবে এই ফলাফলকে সে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখছে না। বরং ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন পূরণের পথে এটিকে নতুন যাত্রার শুরু হিসেবে মনে করছে।
ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ইভার। মেডিকেলে পড়াশোনা করে একজন মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায় সে। ইভার ভাষায়, চিকিৎসাসেবাকে মাধ্যম করে আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার প্রধান লক্ষ্য। অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কষ্ট লাঘব করাকেই সে চিকিৎসক হওয়ার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে দেখছে।
মেয়ের সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা মোহাম্মদ জামাল হোসেন। তিনি বলেন, ইভার এই অর্জন শুধু তাদের পরিবারের নয়, পুরো দেবিদ্বারের জন্য গর্বের। তার সাফল্য উপজেলার অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফলাফলের জন্য অনুপ্রাণিত করবে। মেয়ের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এদিকে ইভার সাফল্যে আনন্দিত তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জাকিয়ার এই অবিস্মরণীয় সাফল্যে বিদ্যালয় পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার মেধা, অধ্যবসায় ও নিয়মিত পরিশ্রমের এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের জন্য তাকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ইভার এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে।