রাজনীতিকে পেশা বানালেই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি জন্ম নেয়: জামায়াত আমির

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ণ   |   ৩৯ বার পঠিত
রাজনীতিকে পেশা বানালেই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি জন্ম নেয়: জামায়াত আমির

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে তারাই মূলত দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত। জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিকে কখনোই পেশা হিসেবে নেয়নি; বরং এটিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছে।
 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতার লোভে যারা রাজনীতি করে, তারাই সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়। এরা আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত নিরাপদ রাখতে দেয় না। এ ধরনের রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে।
 

ক্ষমতায় গেলে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করবেন না—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমপিরা বিনা ট্যাক্সের গাড়ি নেবেন না। প্রয়োজনে রিকশায় চলবো। স্বল্পমূল্যে এমপিদের জন্য বরাদ্দ ফ্ল্যাটও কেউ গ্রহণ করবে না। যার সামর্থ্য আছে, তিনি পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেই গাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনবেন।
 

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। জনগণের সম্পদে কেউ হাত দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
 

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার অঙ্গীকার করে দলটির আমির বলেন, কেউ চাঁদা তুলতে এলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে মায়েদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের আচরণ আর সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
 

তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে, যার দায় পূর্বে যারা দেশ শাসন করেছে তাদেরই নিতে হবে। নির্বাচন এলেই তারা নানা প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়।
 

বৈষম্য প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য এ দেশের মানুষ জীবন ও রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। কিন্তু অসৎ রাজনীতির কারণে সেই বৈষম্য আজও টিকে আছে।
 

চা শ্রমিকদের জীবনমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চা শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের সন্তানরা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। যুগের পর যুগ তারা একই পেশায় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যাচ্ছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চা বাগানের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন করা হবে এবং চা শ্রমিকদের জীবনমানে মৌলিক পরিবর্তন আনা হবে। তাদের কোনো সন্তানই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকবে না—ইনশাআল্লাহ।
 

বাংলাদেশকে বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—চার ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। বাংলাদেশ একটি ফুলের বাগানের মতো। ধর্মের ভিত্তিতে কারও ওপর বাড়াবাড়ি করা ইসলাম সমর্থন করে না—এটি হারাম। কোনো প্রকৃত ধার্মিক ব্যক্তি কখনোই অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি করতে পারে না।