দেশের অন্তত ১০টি জেলায় হাম রোগ উদ্বেগজনকভাবে সংক্রমিত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ১২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঁচ শিশু এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহে মারা গেছে তিন শিশু। পাবনায় গতকাল শনিবার ২৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি মাসে হামে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সেবা না পেয়ে ১৫ দিনে মোট ৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে আরও কেউ কেউ হামে আক্রান্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, সংক্রমণ এখন নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রায় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণত বসন্তকালে শুরু হওয়া এ ধরনের প্রকোপ প্রায় দুই মাস স্থায়ী হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল টিকার সংকট দূর না করা এবং বিভিন্ন দাবিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের আন্দোলন।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং ভাইরাসজনিত উচ্চ সংক্রামক রোগ হওয়ায় হাঁচ-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতা থেকে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চোখ-মাথায় প্রদাহে আক্রান্ত হয় শিশু। এসব শিশুকে হাসপাতালে আলাদা ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, ভোলায় সংক্রমণ বেশি। অন্য কিছু জেলায়ও শিশুরা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১৮ মার্চ এক এবং ২৬ মার্চ দুই শিশু মারা গেছে। চলতি মাসের ২৮ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে দেড় হাজার ছাড়িয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউ-প্রধান ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, গত ১০ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৪ শিশু আইসিইউতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে মারা গেছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, এরা হামসহ অনান্য রোগে আক্রান্ত ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা। তারা অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন শিশুকে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার।