সাবেক ডিসি সারওয়ার আলমকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে চিঠি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ১১ জুলাই ২০২৬ ০৭:১৩ অপরাহ্ণ   |   ৪০ বার পঠিত
সাবেক ডিসি সারওয়ার আলমকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে চিঠি

সিলেট ব্যুরো:

 

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেছে তিনটি চিরকুট। এর মধ্যে দুটি চিরকুটে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমকে পুনরায় সিলেটে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।
 

শনিবার মাজারের দানবাক্স দ্বিতীয় দফায় খোলা হলে দিনভর টাকা গণনার পাশাপাশি এসব চিরকুট উদ্ধার করা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত টাকা গণনার কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মাজারের তিনটি ডেগ ও ছোট-বড় পাঁচটি দানবাক্স থেকে অর্থের পাশাপাশি চিরকুটগুলো উদ্ধার হয়।
 

উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুটে আবু জলিল হাবিব নামের এক ব্যক্তি মাজারের একজন খাদেমের সহকারী খোকনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। চিরকুটে তাকে ‘বাটপার’ উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়, তিনি মাজারের গরু, ছাগল, হাঁস ও মোরগ বিক্রিসহ নানা অনিয়মে জড়িত এবং তার কারণে অনেক কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। ওই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করার পাশাপাশি চিরকুটের শেষাংশে সাবেক ডিসি সারওয়ার আলমকে পুনর্বহালের আহ্বান জানানো হয়।
 

আরেকটি চিরকুটে দরগাহ মহল্লার এক বাসিন্দা নিজেকে শুভাকাঙ্ক্ষী পরিচয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সারওয়ার আলমকে পুনরায় সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
 

অন্য একটি চিরকুটে মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ নামে এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ধর্ষণ, হত্যা, শিশু নির্যাতন ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তিনি বিচারহীনতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।
 

দানবাক্স থেকে এসব চিরকুট উদ্ধারের বিষয়টি মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা তদারকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
 

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সারওয়ার আলম শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেন। প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রীতি ভেঙে তিনি দানবাক্স সিলগালা করেন, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ বিতর্কের মধ্যেই গত ২১ জুন তাকে প্রত্যাহার করা হয়। পরদিন ২২ জুন প্রত্যাহারের আদেশ কার্যকর হওয়ার পর তার উপস্থিতিতেই দানবাক্স খোলা হলে সেখানে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়।