লুটপাটকারীদের সম্পদ উদ্ধার করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১৬ অপরাহ্ণ   |   ৩৬ বার পঠিত
লুটপাটকারীদের সম্পদ উদ্ধার করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ প্রতিনিধি—


 




জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রের সম্পদ যারা লুটপাট করেছে, ক্ষমতায় গেলে তাদের দেশ-বিদেশে থাকা সব সম্পদ উদ্ধার করে আনা হবে। সোমবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিকে ‘ব্যালট বিপ্লব’-এর দিন হিসেবে ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।
 

কুষ্টিয়ায় জনসভার মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। সেখানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উন্নয়নের নামে গত ৫৪ বছরে ক্ষমতায় যাওয়া দলগুলো দেশকে তছনছ করেছে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্রের পরিবর্তন না হলে দেশের অবস্থার উন্নতি সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চাঁদাবাজি ও পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চালের ট্রাকপ্রতি চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নির্মূলের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ক্ষমতায় গেলে এসব বন্ধ করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো হবে। ১১ দলীয় ঐক্যজোট সরকার গঠিত হলে কুষ্টিয়া চিনিকল পুনরায় চালুর ঘোষণাও দেন তিনি।
 

নারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারীদের ত্যাগ অবর্ণনীয়। তাদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ বরদাশত করা হবে না। জামায়াত জোটের নারী কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দেন। পাশাপাশি কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে বড় শহরগুলোতে আলাদা বাস চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
 

চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠে বিকেল পাঁচটার জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, আগামী নির্বাচনে ১১ দলের জোট একত্র হয়েছে, যা দুর্নীতি, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেবে। তিনি জানান, জোটের প্রার্থীরা জয়ী হলে তারা কখনো অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়বেন না। জনপ্রতিনিধিদের এবং তাঁদের স্বজনদের সম্পদের হিসাব প্রতিবছর প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হবে।
 

ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে সন্ধ্যার জনসভায় তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাটের কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে লুটপাটকারীদের দেশ বা বিদেশে থাকা সম্পদ উদ্ধার করা হবে।
 

মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুপুরের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদে হাত দেওয়া হবে না। ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্পদ বাড়বে না; বরং জনগণের সম্পদ ও কল্যাণ বাড়বে। পাঁচ বছর পর নয়, প্রতিবছর মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
 

তিনি আরও বলেন, গত পাঁচ দশকে যারা ক্ষমতায় ছিল, তাদের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের নজির দেশবাসী দেখেছে। ক্ষমতায় গেলে জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন করবে।