রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর যৌথ বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেওয়ার কারণে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের দায়িত্বর দিকে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জাতীয় পার্টি (জাপা) নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যার মধ্যে রয়েছে:
"চব্বিশের বাংলায়, জাতীয় পার্টির ঠাঁই নাই"
"ইন্টেরিমের চামড়া, তুলে নেব আমরা"
"জুলাই যোদ্ধা আহত কেন, ইন্টেরিম জবাব দে"
"দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত"
"আপা গেছে যে পথে, জাপা যাবে সেই পথে"
ছাত্র অধিকার পরিষদ রাবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র-জনতার রক্তের ওপরের চেয়ারে বসে আছেন। সেই চেয়ারে বসা যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। হামলায় জড়িত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের দ্রুত চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত করে বিচারের আওতায় আনা উচিত। এছাড়া যে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা অর্জনে সাহায্য করেছে, তাদেরকে দেশ থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে।"
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মা বলেন, "ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, যিনি আঠারোর কোটা সংস্কার আন্দোলনের অগ্রভাগের নেতৃত্বে ছিলেন, তার ওপর এই ধরনের হামলা হয়েছে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যারা ২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের কী অবস্থা হবে, তা ভাবুন। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এ ধরনের হামলা মেনে নেবে না। আজ নুর ভাইয়ের ওপর হামলা হয়েছে, কাল আমাদের ওপর হতে পারে। যৌথবাহিনীর সদস্য এবং জাতীয় পার্টির দোসরদের বিচার করতে হবে। এছাড়া সেনাবাহিনীর গতকালের বিবৃতিটি প্রহসনমূলক; তাদের স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে।"
উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার কাকরাইলে গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পদক্ষেপ নেয়। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।