ঢাকা প্রেস নিউজ
আজ থেকে বিএনপির দেশব্যাপী ৯ দিনের কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। প্রথম দিনে ছয় জেলায় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে, যা দলের ৬৪ জেলায় চলমান কর্মসূচির অংশ। আজ বুধবার বিকালে খুলনা, লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুনামগঞ্জ ও পটুয়াখালীতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসব সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন, এবং এরই মধ্যে কিছু নেতা সংশ্লিষ্ট জেলায় পৌঁছেছেন।
কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজকের সমাবেশে বিভিন্ন স্থানে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন:
দাবি আদায়ে বিএনপির কৌশল অন্তর্বর্তী সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানালেও বিএনপি সরকারকে চাপে রাখতে দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের নেতারা মনে করছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আশ্বাসে নেতাকর্মীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তবে সরকারকে চাপে রাখতে লাগাতার কর্মসূচি প্রয়োজন।
সোমবার রাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন। একই দিন বিএনপির তিন শীর্ষ নেতা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করেন।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বৈঠকে বিএনপির নেতারা জানান, প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন, তবে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র সংগঠনগুলোর কারণে নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য সময় প্রয়োজন, এবং জামায়াতও তৃণমূল সংগঠন গোছাতে ব্যস্ত।
বিএনপির কৌশল হলো, রাজপথে কর্মসূচির মাধ্যমে জনসমর্থন দেখিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণার জন্য চাপ সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্যে প্রতিটি সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগম নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ করছেন।
সমাবেশের সময়সূচি ১২ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট দিনে বিএনপির নেতারা দেশের বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ করবেন। কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত থাকবেন:
১৭ ফেব্রুয়ারি: যশোর, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, মৌলভীবাজার, ভোলা। ১৮ ফেব্রুয়ারি: কক্সবাজার, পাবনা, পঞ্চগড়, কুমিল্লা দক্ষিণ, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা। ১৯ ফেব্রুয়ারি: নোয়াখালী, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, কুষ্টিয়া, শরীয়তপুর, পিরোজপুর, রাজশাহী। ২০ ফেব্রুয়ারি: ঢাকা, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল দক্ষিণ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ, ফরিদপুর, চুয়াডাঙ্গা, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম। ২২ ফেব্রুয়ারি: ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, ময়মনসিংহ উত্তর, জয়পুরহাট, কুমিল্লা উত্তর, বান্দরবান, রংপুর, নরসিংদী। ২৪ ফেব্রুয়ারি: মুন্সিগঞ্জ, বরিশাল উত্তর, নড়াইল, নাটোর, গাইবান্ধা, রাঙ্গামাটি, মাগুরা, সৈয়দপুর। ২৫ ফেব্রুয়ারি: নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম উত্তর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, মেহেরপুর, নীলফামারী, খাগড়াছড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
পরবর্তী পরিকল্পনা বিএনপি জানিয়েছে, রমজান মাসে কোনো রাজপথের কর্মসূচি থাকবে না। তবে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে দাবিগুলো পুনরায় উপস্থাপন করা হবে। রমজানের পরও সরকারের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী বিভাগ ও মহানগরে সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নেতারা সরকারকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ৫ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানান।
উপসংহার দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে বিএনপির দেশব্যাপী কর্মসূচি চলছে। রমজানের আগেই এসব কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও, প্রয়োজন হলে রমজানের পরও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।