চাঁদাবাজির খবর প্রকাশে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৪ অপরাহ্ণ   |   ১১০ বার পঠিত
চাঁদাবাজির খবর প্রকাশে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

মোঃ আলমগীর হোসাইন হৃদয়, জামালপুর প্রতিনিধি:

 

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে ইয়াকুব আলী (যুবক)–এর নাম উল্লেখ করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

 

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক দৈনিক খোলা কাগজ-এর মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান সাইফুল। অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বালিজুড়ী বাজার–হাসপাতাল সড়কের নূরুনাহার মির্জা কাশেম মহিলা ডিগ্রি কলেজ এলাকায় তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় ইয়াকুব আলী। অভিযুক্ত ইয়াকুব আলী মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ী পণ্ডিতপাড়া এলাকার খাদ্য ব্যবসায়ী আশরাফ হাজীর ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই এক ঠিকাদারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পুলিশ ইয়াকুব আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে সে আবারও চাঁদাবাজি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ১০ অক্টোবর ছাত্রদলের নেতা ফারুকের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ইয়াকুব আলী ও তার সহযোগীরা তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ফারুক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ফারুক দৌড়ে আত্মরক্ষা করেন।

 

খবর পেয়ে ফারুকের ভাই ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ইয়াকুব আলী ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ইয়াকুবের হাতে থাকা ছুরির আঘাতে বিপ্লব বুকে আহত হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হাবিবের পা ও হাঁটুতে ছুরিকাঘাত করা হয়। এছাড়া ফারুককেও লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়।

 

এসব ঘটনার সংবাদ প্রকাশের পরই বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক সাইফুলকে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়াকুব আলীর বাবা আশরাফ হাজী বলেন, “আমার ছেলে আমাদের কথা মানে না। আপনারা ওকে পুলিশে ধরিয়ে দিন। আমি ওর সঙ্গে পারি না।”

 

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “অভিযোগটি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”