অবরোধের কারণে তালাইমারী মোড় দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই হেঁটে মোড় পার হয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন। দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ ভারী যানবাহন বিকল্প হিসেবে বাইপাস সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বরেন্দ্র কলেজ, মসজিদ মিশন একাডেমিসহ ১০ থেকে ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুপুরের পর তালাইমারী মোড়ে জড়ো হয়ে চারদিকের সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) রুয়েট গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে যানবাহন ঘুরিয়ে দেয়।
আন্দোলনরত বরেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী আনাস রহমান বলেন, তাঁদের দাবি হলো এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন পুনর্বিন্যাস করে নতুন সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করা।
মসজিদ মিশন কলেজের শিক্ষার্থী আল জাওয়াদ নাহিয়ান বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে তাঁরা ক্ষুব্ধ এবং তাঁর পদত্যাগ দাবি করছেন।
বরেন্দ্র কলেজের আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শান্ত বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন জটিলতা ও বিরূপ পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে রয়েছেন। দ্রুত দাবি মেনে নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষও। অটোরিকশাচালক আতাউর রহমান বলেন, সড়ক বন্ধ থাকায় তাঁরা শহরের দিকে যেতে পারেননি, এতে আয় কমেছে এবং যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ব্যস্ত সময়ে সড়ক অবরোধ সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আন্দোলনের অধিকার থাকলেও জনদুর্ভোগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
মতিহার থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ফেরদৌস জানান, দুপুর ২টার পর থেকে পরীক্ষার্থীরা তালাইমারী মোড় অবরোধ করে রাখেন। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহারের পর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।