সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধ এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে জকসু। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।
জকসুর মানববন্ধনে সংগঠনটির জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, বর্তমান সরকার সাত মাস পার করলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দৃশ্যমান ও ফলপ্রসূ কাজ করতে পারেনি। সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সবার সমান সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক পরিচয় বা কর্মকাণ্ডের কারণে কিছু প্রার্থী পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার বিরোধিতা করা কিংবা জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার মতো পরিচয়ের কারণে দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে যেসব প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।
আব্দুল আলিম আরিফ আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের যে চরিত্র দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের মধ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সরকার নিজেদের অবস্থান সংশোধন না করলে ক্যাম্পাসগুলোতে যেমন আন্দোলন হয়েছে, তেমন আন্দোলন তাদের বিরুদ্ধেও গড়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, মেধাবী ও সচেতন শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দূরে রেখে দলীয় লোকজনকে নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে দলীয়করণের চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে দেশের শিক্ষার্থীরা তাদের আগের অবস্থানে ফিরিয়ে দিতে বেশি সময় নেবে না।
অন্যদিকে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে সরকারি চাকরিতে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে ভাস্কর্য চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখা। কর্মসূচির ব্যানারে লেখা ছিল, ‘তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে সরকারি চাকরিতে দলীয়করণের বিরুদ্ধে’ বিক্ষোভ সমাবেশ।
সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, সরকার এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসে থাকবে না। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক বিবেচনা বন্ধের দাবি জানান তিনি।
জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিংবা এনসিপি-জামায়াতকে সমর্থন করার কারণে শত শত যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে প্রার্থী বাদ দেওয়ার ঘটনা বৈষম্যমূলক বলেও দাবি করেন তিনি।