বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস যেন নতুন করে ফিরে এল। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। প্রায় চার দশক পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও একই প্রতিপক্ষকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে স্মরণ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ম্যাচে গোল করতে না পারলেও দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেসি। খেলা শেষে তিনি জানান, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয় তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি ম্যারাডোনাকে।
ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, “আমি নিশ্চিত, ডিয়েগো ওপরে বসে হাসছেন। এই দিনটা তার কাছেও বিশেষ। তাকে এই আনন্দ উপহার দিতে পেরে আমরা গর্বিত। এই জয় তার জন্য।”
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত শতভাগ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। তবে পুরো আসরজুড়ে দলটিকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল। কখনও ফিফার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, আবার কখনও পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে মাঠের খেলায় সব সমালোচনার জবাব দিয়েছে মেসির দল।
এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, “আর্জেন্টিনার মানুষ সবসময় আরও বেশি চায়। আমরা জানতাম, হারলে অনেক কথা শুনতে হতো। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে আমরা তাদের সেই সুযোগই দিইনি। সবাইকে জবাব দিতে পেরেছি।”
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই বরাবরই ইতিহাস, আবেগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক। মেসির ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি ছিল প্রথম ম্যাচ। সেই ম্যাচেই জয় নিয়ে ফাইনালে ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত তিনি।
মেসি বলেন, “এটা বিশ্বকাপের আরেকটি ম্যাচ হলেও আমাদের জন্য আলাদা ছিল। সমর্থকেরা এই জয়টা ভীষণভাবে চেয়েছিল। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার আনন্দ অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আলাদা।”
পিছিয়ে থেকেও দল যেভাবে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সে জন্য সতীর্থদের প্রশংসা করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার ভাষায়, “আর্জেন্টিনার কেউ এই ম্যাচটা হারতে চায়নি। এই হার আমরা মেনে নিতে পারতাম না। তাই আজকের আনন্দও অন্যরকম। আমি জানি, এখন গোটা আর্জেন্টিনা উদযাপনে মেতে আছে।”
ইংল্যান্ডকে বিদায় করে এখন বিশ্বকাপ শিরোপা থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করবে মেসির দল।