চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩০ অপরাহ্ণ   |   ৩৮ বার পঠিত
চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫

হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

 

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
 

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের নলচর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সবার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
 

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় নলচর গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
 

স্থানীয় সূত্র জানায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে নলচর গ্রামের বাসিন্দারা বৈঠক করে চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবিকে চেয়ারম্যান পদে গ্রামের একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেন। ওই বৈঠকে চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল বারেক প্রধানও রবিউল্লাহ রবিকে সমর্থন করেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরে বারেক প্রধান নিজেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
 

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ নিয়ে সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে মঙ্গলবার ভোরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
 

রবিউল্লাহ রবির ভাই ফারুক সরকার অভিযোগ করেন, সোমবার রাতে মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গাফফারের ইন্ধনে বারেক প্রধানের ছেলে মহসিন লোকজন নিয়ে তাদের লোকজনকে ধাওয়া করেন। পরে মঙ্গলবার ভোরে হামলার আশঙ্কায় তারা প্রস্তুতি নিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
 

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল গাফফার। তিনি বলেন, রবিউল্লাহ রবি আওয়ামী লীগের লোকজনকে মদদ দিচ্ছেন—এমন অভিযোগ পেয়ে সোমবার রাতে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বারেক প্রধানের পক্ষ হয়ে তিনি কোনো ইন্ধন দেননি। দলের পক্ষ থেকে যাকে সমর্থন করা হবে, তিনিই চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন বলেও জানান তিনি।
 

আব্দুল বারেক প্রধান বলেন, রবিউল্লাহ রবির সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি রবির বোনকে বিয়ে করেছেন এবং তার ছেলে রবির মেয়েকে বিয়ে করেছেন। নিজের শেষ বয়সে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা রবিকে জানিয়েছিলেন। পরে রবি নিজেও প্রার্থী হওয়ার কথা জানালে তিনি প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার সকালে রবির লোকজন হামলা করতে এলে তারা প্রতিরোধ করেন বলে দাবি করেন বারেক প্রধান। তার পক্ষের ১৩ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
 

চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, গ্রামের মানুষ প্রথমে রবিউল্লাহ রবিকে একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছিলেন। বারেক প্রধানও তাকে সমর্থন করেছিলেন। পরে বারেক প্রধান নিজে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সোমবার রাতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনার জেরেই মঙ্গলবার সকালে সংঘর্ষ হয়েছে বলে তিনি জানান।
 

এদিকে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রবিউল্লাহ রবি ও বারেক প্রধান দুজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে।
 

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নলচর গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 

পুলিশের উপস্থিতিতে এক পক্ষকে ধাওয়া ও হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, পুলিশের কারও পক্ষ নেওয়ার সুযোগ নেই। একটি মামলা তদন্তের কাজে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। পুলিশের সামনে ধাওয়া বা মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।