রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৯ মে ২০২৬ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ   |   ৪৫ বার পঠিত
রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। 

 

শুক্রবার ৮ মে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই যুদ্ধবিরতি ৯ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে।

 

ট্রাম্প লিখেছেন, আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধে ৯, ১০ ও ১১ মে তিন দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

 

এর কিছুক্ষণ পরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ক্রেমলিন উভয়পক্ষই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করে।

 

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সমঝোতা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে রাশিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘বিজয় দিবস’ উপলক্ষে একতরফাভাবে দুই দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল।

 

অন্যদিকে, ইউক্রেন জানিয়েছিল, তারাও আগে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু মস্কো সেটি উপেক্ষা করে। ট্রাম্প বলেন, “এই অনুরোধটি আমি সরাসরি করেছি।” একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন-উভয় পক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, যুদ্ধবিরতির সময় সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকবে এবং উভয় দেশ এক হাজার করে মোট দুই হাজার যুদ্ধবন্দি বিনিময় করবে।

 

তিনি বলেন, রাশিয়ার বিজয় দিবস যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ইউক্রেনের জন্যও এটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউক্রেনও বড় ভূমিকা রেখেছিল।

 

যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা এখনও চলছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমরা প্রতিদিন সমাধানের আরও কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘ, প্রাণঘাতী ও কঠিন যুদ্ধের সমাপ্তির সূচনা হবে।

 

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা ছিল ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। তিনি দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায় ফিরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই সংঘাতের সমাধান করবেন। তবে প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও ওয়াশিংটন এখনও বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে।

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনো যুদ্ধ বন্ধে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখাননি। বিশাল সামরিক শক্তির কারণে শেষ পর্যন্ত রাশিয়াই জয়ী হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

বর্তমানে শান্তি আলোচনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনেতস্ক অঞ্চল। এই অঞ্চলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। মস্কোর দাবি, রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অংশ থেকেও ইউক্রেনীয় সেনাদের সরিয়ে নিতে হবে। তবে কিয়েভ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ভূখণ্ড ছাড়তে রাজি নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে।

 

জেলেনস্কি বারবার বলেছেন, কোনো শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে ট্রাম্প এবং কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।