নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর বনশ্রী এলাকার একটি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১০ বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশুটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এই ঘটনায় রামপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে বনশ্রীর ওই মাদ্রাসার তৃতীয় তলার শৌচাগার থেকে শিশুটির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাদ্রাসার এক শিক্ষক জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ওই শিক্ষার্থী শৌচাগারে যায়। দীর্ঘ সময় পরও সে বের না হওয়ায় শিক্ষকরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন এবং গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করা হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
"মাদ্রাসায় পাঁচজন শিক্ষক, দুজন স্টাফ এবং ৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীটি মঙ্গলবার বিকেলেই ছুটি নিয়ে মাদ্রাসা থেকে চলে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে।"
— মাদ্রাসার একজন শিক্ষক
রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শিশুটি হিফজুল কোরআন বিভাগে পড়ত। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই মাদ্রাসারই ১৭-১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালাত।
প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটির শরীরে ও পায়ুপথে জখম এবং যৌন নির্যাতনের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। এই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই শিশুটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এই ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুটির বাবা সৌদি আরব প্রবাসী। তার মা ছোট আরেক ছেলেকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। শিশুটি গত চার বছর ধরে এই মাদ্রাসায় আবাসিক ছাত্র হিসেবে পড়ালেখা করছিল।