বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনা, ইউনিটপ্রতি বাড়তে পারে যত

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৬ মে ২০২৬ ০৪:৫৫ অপরাহ্ণ   |   ৪৬ বার পঠিত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনা, ইউনিটপ্রতি বাড়তে পারে যত

বিদ্যুতের মূল্য আবারও সমন্বয়ের পথে হাঁটছে সরকার। জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে পাইকারি ও খুচরা, দুই পর্যায়েই দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ প্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে। নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানির পর কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম প্রায় ৮ টাকা ৯৫ পয়সা, আর পাইকারি পর্যায়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে উভয় পর্যায়েই বাড়তি চাপ পড়বে। তবে কম ব্যবহারকারী বা লাইফলাইন গ্রাহকদের (৭০ ইউনিট পর্যন্ত) আপাতত মূল্যবৃদ্ধির বাইরে রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম থাকায় বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে খরচ হয়, তার চেয়ে প্রায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে চলতি অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি, কয়লা ও তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা ব্যয় বাড়াচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব চাপ মোকাবিলায় মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি বিইআরসিতে পাঠানো হয়েছে এবং বিতরণ কোম্পানিগুলোও একই ধরনের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে। চলতি সপ্তাহেই সেগুলো জমা পড়তে পারে। সব প্রক্রিয়া শেষে জুনের শুরুতেই নতুন দর কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দাম বাড়ালে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমবে ঠিকই, তবে শিল্প উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও এর প্রভাব পড়বে।