জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ঝারকাটা নদীর খাস জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যেই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করা হলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
শুক্রবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঝারকাটা ব্রিজ থেকে প্রায় ৩০০ গজ পূর্ব পাশে নদীর ভেতরের খাস জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পাশের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলছিয়া গ্রামের মৃত সিরাজ আকন্দের ছেলে নুর নবী এ কাজে জড়িত। তিনি আনসার বাহিনীতে কর্মরত থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে অন্য উপজেলায় এসে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত মাটি কাটার ফলে নদীর তীরবর্তী সড়ক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। এছাড়া নদীর খাস জমিতে বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হলেও অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। নদী রাষ্ট্রীয় সম্পদ হওয়ায় এটি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুর নবীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি নিয়মিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলায় আনসার কমান্ডার হিসেবে কর্মরত বলেও জানান। এ বিষয়ে পরদিন ইউএনও’র মাধ্যমে যোগাযোগ করানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। শিগগিরই সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।