খাল খনন ও কৃষি বিপ্লবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নবদিগন্ত

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৫৮ অপরাহ্ণ   |   ৩৬ বার পঠিত
খাল খনন ও কৃষি বিপ্লবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নবদিগন্ত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার সংস্কৃতি এক নতুন মাত্রা পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তিনি ‘কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী’- এই নীতিতে অটল থেকে একের পর এক নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করে চলেছেন। বিশেষ করে নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রাণপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তিনি যে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, তা আজ সাধারণ মানুষের কাছে এক নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

কেবল নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি; নিজে কোদাল হাতে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি প্রমাণ করেছেন, শ্রমের কোনো অমর্যাদা নেই এবং দেশের উন্নয়নে শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারণায় তারেক রহমানের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল দেশের নদী ও খালগুলো উদ্ধার করা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি 'খাল খনন ও জলাশয় সংস্কার' প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পরপরই তিনি এই কাজে হাত দেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া কয়েকশ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের কাজ এখন পুরোদমে চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাল খনন কর্মসূচির ফলে কয়েক দশকের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়, তখন এই খালগুলো পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। আবার শুষ্ক মৌসুমে এই সংরক্ষিত পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে, যা ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের ওপর কৃষকদের নির্ভরতা কমিয়ে দেবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই মেগা প্রকল্পের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো তার সরাসরি অংশগ্রহণ। দেশের বিভিন্ন জেলায় তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে মাটি কেটে প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন। একজন রাষ্ট্রপ্রধান যখন নিজে মাটি কাটেন, তখন সেই কাজের গতি এবং গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি কেবল একটি উদ্বোধন নয়, বরং দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ ও সাধারণ মানুষের জন্য এক বিশাল বার্তা। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, নিজের দেশের উন্নয়নে ঘাম ঝরানো লজ্জার নয়, বরং গৌরবের।

এতে একদিকে যেমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমেছে, অন্যদিকে তৃণমূলের সাধারণ মানুষ এই মহৎ কাজের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছে। বিএনপির সরকারের প্রধান হিসেবে তার এই উদ্যোগ কেবল দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেই নয়, বরং সাধারণ নাগরিকদের মনেও গভীর আস্থার জায়গা তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান বারবার উল্লেখ করেছেন যে, 'কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।' খাল খননের মাধ্যমে পানি সেচ ব্যবস্থা সহজলভ্য করার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের কৃষি উৎপাদনে। আগে যেসব জমিতে বছরে একটি ফসল হতো, আধুনিক সেচ সুবিধা বাস্তবায়ন হলে সেখানে  তিন ফসল ফলানো সম্ভব হবে ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই সংস্কার কার্যক্রমের ফলে ধান, গম এবং রবি শস্যের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খালগুলোর পাড়ে বনায়ন এবং মাছ চাষের জন্য স্থানীয় সমবায় সমিতিগুলোকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলছে। এতে করে কেবল পানি ব্যবস্থাপনা নয়, বরং আমিষের চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।

নির্বাচনের আগে বিএনপি যে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল, তার মূল ভিত্তি ছিল জনকল্যাণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যেই তার প্রতিশ্রুতির বড় একটি অংশ স্পর্শ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:

১. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ: উন্নয়নকে কেবল ঢাকা বা বড় শহরকেন্দ্রিক না রেখে ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া।
২. যুব কর্মসংস্থান:খাল খনন ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে স্থানীয় যুবকদের অগ্রাধিকার প্রদান।
৩. দুর্নীতি প্রতিরোধ: উন্নয়নমূলক কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার প্রবর্তন।
৪. জ্বালানি নিরাপত্তা: কৃষি সেচে পানির প্রাকৃতিক উৎসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জ্বালানি সাশ্রয়।

দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কর্মতৎপরতা ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। গ্রামীণ জনপদে ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা তাদের হারানো খাল ফিরে পেয়ে খুশি। বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ভাষ্যমতে, 'আমরা এমন প্রধানমন্ত্রী চেয়েছিলাম যিনি আমাদের মাটির কথা বুঝবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই 'ফিল্ড লেভেল' কাজ তাকে একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। বিরোধী দলের সমালোচনা থাকলেও মাঠ পর্যায়ের দৃশ্যমান উন্নয়ন সেই সমালোচনাকে ম্লান করে দিচ্ছে।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভাগ্য বদলাতে হলে পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা অনিবার্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই কঠিন বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে হাত দিয়েছেন একদম গোড়ায়। 

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যে কেবল ভোট পাওয়ার হাতিয়ার নয়, বরং দেশের ভাগ্য বদলানোর অঙ্গীকার—তিনি তা প্রমাণ করে চলেছেন। খাল খনন ও কৃষি সংস্কারের এই মহোৎসব যদি এভাবে অব্যাহত থাকে, তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, যা হবে শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ।

দেশবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তার এই উন্নয়ন অভিযাত্রা বজায় রাখবেন এবং দেশের প্রতিটি প্রান্তে সুফল পৌঁছে দিবেন। জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনই হবে তার আগামী দিনের চলার পথের প্রধান শক্তি।