কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল

  প্রিন্ট করুন   প্রকাশকালঃ ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৩৫ অপরাহ্ণ   |   ৭৫ বার পঠিত
কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

ঢাকা থেকে কক্সবাজার—পর্যটকদের জন্য দিনে-রাতে থাকছে নানা আয়োজন
 

দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। আগামী ১ নভেম্বর শুরু হয়ে এ আয়োজন চলবে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে দিন ও রাতজুড়ে থাকছে নানা ধরনের বিনোদন, খাবার, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।
 

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
 

সামীমুজ্জামান বলেন, কক্সবাজারকে বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুন ও ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মানের এ কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে।
 

তিনি বলেন, হলিডে মৌসুমে লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে কক্সবাজার। এবার তাদের জন্য যুক্ত হচ্ছে নতুন অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় হোটেল শৈবালের সমুদ্রসৈকত ও ঝাউবনের বিস্তৃত এলাকায় এ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে।
 

পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান বলেন, কক্সবাজারে বছরজুড়ে পর্যটকের আগমন বাড়লেও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা আশানুরূপ বাড়েনি। পর্যটকদের অন্যতম অভিযোগ হলো, সমুদ্রসৈকত উপভোগের পর সন্ধ্যা ও রাতে বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার দিন ও রাতের জন্য আলাদা আলাদা বিনোদনমূলক কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
 

কার্নিভালে দেশি-বিদেশি নানা খাবারের পাশাপাশি থাকবে লাইভ ফুড স্টল, বারবিকিউ, আইসক্রিম পার্লার ও জুস কর্নার। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে পোশাক, অলংকার, মাটির পণ্য এবং স্থানীয় কারিগরদের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে থাকবে মার্কেট জোন ও ক্র্যাফট ভিলেজ।
 

প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের জন্য সূর্যোদয়ের সঙ্গে যোগব্যায়াম ও মেডিটেশনের আয়োজন থাকবে। শিশুদের জন্য আর্ট, নিরাপদ রাইডসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম নিয়ে থাকবে কিডস জোন।
 

এ ছাড়া বক্যাম্পিং জোনে থাকবে নাইট-স্টে ক্যাম্পিং, ওপেন-স্কাই লাইব্রেরি, সেলফ-বারবিকিউ, হ্যামক, ক্যাম্পফায়ার এবং টেলিস্কোপের মাধ্যমে তারাভরা আকাশ দেখার সুযোগ।
 

কার্নিভালে আরও থাকছে লাইভ আর্ট ও ফটো গ্যালারি, ওপেন-স্কাই মুভি থিয়েটার, ভিআর জোন, সার্কাস টেন্ট, কায়াকিং ও লাইভ বাস্কিং। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য থাকবে গো-কার্ট, বিচ ফুটবল, বিচ হ্যান্ডবল, বিচ ভলিবল, বিচ কাবাডি, ব্যাডমিন্টন ও স্যান্ড স্কাল্পচার।
 

বিজয় দিবস, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষেও থাকবে বিশেষ আয়োজন। পাশাপাশি সমুদ্রের সামনে সূর্যাস্তের নান্দনিক পরিবেশে ‘বিচ ভিউ ওপেন থিয়েটার’-এ বাঁশির সুরসহ দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজন করা হবে ভিন্নধর্মী বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান।
 

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. গনী উল আজম। তিনি তিন মাসব্যাপী কার্নিভালের বিভিন্ন কর্মসূচি ও আয়োজন সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন।
 

অনুষ্ঠানে কার্নিভাল বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুল আরেফিন বক্তব্য দেন। এ সময় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক, মহাব্যবস্থাপকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।